ঢাকা | বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
মুক্তমত

জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বিএনপি’র

মো. শামীম হোসেন (বিদ্যুৎ) : প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৯-২০১৭ ইং । ০৯:২০:৪৩

মো. শামীম হোসেন (বিদ্যুৎ) : ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সাল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও আদর্শের সৈনিকদের জন্য ছিলো মহা আনন্দের দিন। ছিলো একের ভিতর দুই ঈদ অর্থাৎ টু ইন ওয়ান। একটি হল মুসলমান জাতিগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় ঈদ পবিত্র ঈদুল আযাহ আর অন্যটি হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।
আজ এই আনন্দঘন শুভ মুহুর্তে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, জাতির দুঃসময়ের কান্ডারী, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম কে। স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে অগণিত শহীদদের। সেই সাথে সহমর্মিতা জানাচ্ছি দেশে ভয়াবহ বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য যারা পবিত্র ঈদ উৎসবে নিদারুণ কষ্টে অমানবিক জীবনযাপন করছে। ধিৎকার জানাচ্ছি অবৈধ আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারকে যারা দেশের জনগণের দুর্দিনে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিয়ে, মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করছে। বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকল জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক,ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থকসহ সমগ্র দেশবাসীকে যারা দেশের মানুষের দুর্দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সকল জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক,ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থকসহ সমগ্র দেশবাসীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তাঁর পরিবার এবং তাঁর গড়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের গণ মানুষের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর পক্ষ থেকে একটা বিরাট রড় রকমের আশীর্বাদ।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের ক্লান্তিকালে সব সময় ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে।
১)
বাংলাদেশ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের যে অবদান তা একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। যারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানকে খাটো করে দেখতে চায় বা তাঁর অবদানকে অস্বীকার করতে চায় তারা আসলে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে চাই। মুখে চেতনার কথা বলে আর অন্তরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন যারা সেদিন দেখেছিল তারা আর যাই বলুক দেশের স্বাধীনতা কোন ভাবেই চাইনি। ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর প্রায় সব রাজনৈতিক নেতারা আতœগোপনে চলে যায়। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ  পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলা চালায়, জাতি তখন একেবারে দিশেহারা। সেই সময় ছিল না কোন সঠিক দিকনির্দেশনা। সমগ্র জাতি একেবারে অপ্রস্তুত এবং দিশেহারা। একটি জাতির সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য মহান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে সমগ্র জাতি খুজে পান দিশা। ঝাঁপিয়ে পরে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে। দেশপ্রেমিক, সৎ ও ন্যায়ের প্রতীক সেনাবাহিনী সেদিন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে পারেনি। মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার সাথে সাথে সদ্য ঘোষিত স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জনগণকে সাথে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে। মেজর জিয়াউর সেই দুঃসময়ে জাতির কাণ্ডারি হয়ে এগিয়ে না আসলে এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষণা না করলে আজও হয়ত দেশ স্বাধীন হত না। তাঁর বক্তব্যে আমরা অনেক সময় শুনেছি, কথায় নয় কাজে তিনি বিশ্বাস করতেন। সব সময় তিনি নিজে কাজ করে প্রমাণ করেছেন তিনি কত বড় মাপের একজন মানুষ। তাই তো মহান মুক্তিযুদ্ধে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। কিছু লোক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর, তাঁর পরিবার ও নিজের হাতে গড়া জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করে থাকে। তারা বলতে চাই জিয়াউর রহমান প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ছিল। তিনি কোন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। তাদের স্মরণ করে দিতে চাই সেনাবাহিনী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ছিল কিন্তু সেই সময় শেখ মুজিবের কর্মচারী ছিলেন না। ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনী ছিল পাকিস্তান সরকারের অধীনে। একটি দেশের অধীনে থেকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা রাজনীতি করার চেয়ে কোটি কোটি গুণ বিপদজনক। যদি দেশে স্বাধীন না হত শেখ মুজিব হয়ত কয়েক মাস জেল খেটে ছাড়া পেত কিন্তু মেজর জিয়ার কি হত? যারা সেনাবাহিনীর ভেতরের আইন কানুন জানেন বা বুঝেন তারা সহজে উপলব্ধি করতে পারছেন। নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড। তাই বিষয়টা অত সহজ মনে করার কোন কারণ নেই। নিন্দুকেরা বলে তাদের নেতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কোন প্রমাণ নেই। নিজস্ব গণমাধ্যমে তারা লাগাতার মিথ্যা  অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাই। কিন্তু দেশের মানুষ এত বোকা নয়। শেখ মুজিব কিনা মেজর জিয়ার আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবি ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার আগেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন হল যদি শেখ মুজিব ২৫শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে থাকেন তাহলে আমার কেন রাষ্ট্রীয় ভাবে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করি? আবার অন্যদিকে জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ২৫শে মার্চ রাতে একটি টেপ রেকর্ডার ও কাগজ কলম নিয়ে তাঁর নেতা শেখ মুজিবকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য বলেছিলেন কিন্তু শেখ মুজিবর রহমান বলেছিলেন, না স্বাধীনতা ঘোষণা করা যাবেনা, এটি তাঁর বিরুদ্ধে রেকর্ড হয়ে থাকবে এবং তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ফাঁসি দিতে পারে। পরে জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ অভিমান করে চলে যান। তারপর পরই শেখ মুজিবর রহমান গ্রেফতার হন। অতএব খুব পরিস্কার যে শেখ মুজিরব রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন নাই। তা ছাড়া শেখ মুজিবর রহমান নিজেই বহুবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেকে বলেছিলেন আমি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। অতএব যতই অপপ্রচার করুক না কেন অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকার কোন ভাবেই প্রমাণ করতে পারবে না, যে তাদের নেতা শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।    
 আবার অন্যদিকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন ২৬শে মার্চ ১৯৭১ সালে আর অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল ১০ই এপ্রিল এবং অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ সাল, তাহলে মাঝখানে এই যে এতগুলো দিন কোন সরকারের অধীনে দেশ ও সেনাবাহিনী ছিল? অতএব আপনাদের বাকশাল অপকর্ম ঢাকার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার করে কোন লাভ হবেনা। কারণ মানুষ অনেক সচেতন, শিক্ষিত এবং দেশে ও দেশের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে। এখন তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধু গলাবাজি করে আর পার পাওয়া যাবেনা।
২)
দেশ স্বাধীন হল। সুবিধাবাদী, পালাতক, আতœগোপনে থাকা সবাই উড়ে এসে জুড়ে বসলেন ক্ষমতায়। দেশ স্বাধীন হল ঠিকই কিন্তু জনগণের ভাগ্যে নেমে আসলো ঘোর অন্ধকার। সেই সময়ে ক্ষমতা লোভী সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত হল রক্ষী বাহিনী,দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে গঠিত হল আরও হরেক রকমের লাল নীল বাহিনী। একদিকে দেশে খাদ্য সঙ্কট অন্যদিকে নিজের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য শেখ মুজিব নিষিদ্ধ করল সকল রাজনৈতিক দল, এমনকি নিজের দল আওয়ামীলীগ সহ সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। জন্ম দিল একদলীয় বাকশাল, বন্ধ করল ভিন্নমতালম্বী সকল সংবাদ মাধ্যম। রুদ্ধ করা হল বাক স্বাধীনতা। যখন দেশের জাতীয় সরকার জরুরী ছিল, ঠিক সেই সময় শেখ মুজিব গঠন করেছিলেন ভয়ংকর বাকশাল। সন্ত্রাস, ধর্ষণ,  লুটতরাজ, ব্যাংক লুট, এমন কোন হেন কাজ নেই যা বাকশাল সরকার করেনি। দেশ এক মহা সঙ্কটে পতিত হল শুরু হল দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা। মূলত ক্ষমতা আর লুটপাটের ভাগবাটোয়ারা কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোস্তাক আহমদের নেতৃতে কিছু সেনাবাহিনীর অফিসারের বল প্রয়োগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব নিহত হন। ঘটনা পরিক্রমায় বিশৃঙ্খল জাতিকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে আবারও মেজর জিয়াউর রহমান হয়ে ওঠেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ সাল এক ঐতিহাসিক দিনে সিপাহী জনতা ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। ৭ই নভেম্বর সকালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ রেডিওতে জাতিকে দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সফল সিপাহী জনতার বিপ্লব ও রেডিওতে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক জিয়ার কণ্ঠস্বর শুনে হাজার হাজার মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়ে নেমে এসেছিল রাজপথে যেমনটি ১৯৭১ সালে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।  
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির অঙ্গীকার নিয়ে জিয়া আবার জাতির নেতৃত্বে ফিরে আসেন। আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশের ম্যাগন্যাকারটা বা মুক্তির সনদ ঘোষণা করেন। যা সবার কাছে ১৯ দফা নামে পরিচিত। এই ১৯ দফা কর্মসূচির জন্য ১৯৭৭ সালে ৩০শে দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এক কোটি ৯২ লক্ষ ৯ হাজার ৬০ ভোটের মধ্যে এক কোটি ৮৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৩ হ্যাঁ সূচক ভোট দিয়ে মানুষ ১৯ দফা কর্মসূচির প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন ব্যক্ত করে।
শুধু বাংলাদেশে মানুষের কাছে নয় আন্তর্জাতিক ভাবেও জিয়ার নেতৃত্ব ছিল প্রশংসনীয় বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের কাছে জিয়া ছিলেন এক অবিসংবাদিত নেতা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের যখন একটি সর্বদলীয় সরকার দরকার ছিল দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য, ঠিক সেই সময় শেখ মুজিব বিরোধী মত বা রাজনৈতিক দল সমূহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। জাতির মধ্যে ভয়ঙ্কর এক বিভাজন সৃষ্টি করেন শেখ মুজিব। শুধু তাই নয় নিজের দলের প্রগতিশীল নেতাদের কোণঠাসা করে রাখেন, আর প্রতিক্রিয়াশীল নেতাদের বুকে টেনে নেন। অবশ্য এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হাতেই শেখ মুজিব নির্মম ভাবে নিহত হন। অন্যদিকে জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন নির্লোভ ও সজ্জন ব্যাক্তি। ক্ষমতার প্রতি তাঁর কোন লোভ লালসা ছিলনা। তিনি যদি খমতালিপ্সু হতেন তাহলে তিনি অনেক আগেই রাষ্ট্র ক্ষমতা নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন নাই। সময়ের প্রয়োজনেই সিপাহী জনতা মেজর জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন প্রখর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের অধিকারী।  তাঁর ব্যাক্তিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতা দেখে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বলেছিলেন ‘তাঁর মত স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিমুক্ত নেতা আর দেখেননি’। এ থেকে পরিস্কার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেমন সৎ ও বলিষ্ঠ নেতা ছিলেন তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবদ্দশায়।
৩)
স্বনির্ভর দেশ গড়তে একদলীয় বাকশাল মুক্ত ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কল্পে ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট দশ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এবারও ১৯ দফা কর্মসূচির মত বিপুল ভোটে দেশের জনগণ আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক জেনারেল জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। এক কোটিও বেশি ভোটের ব্যবধানে তাঁর নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট প্রার্থী জেনারেল জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের শরিক দল গুলো নিয়ে ১৯৭৮ সালে ১লা সেপ্টেম্বর এই দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান ছিলেন উদার গণতান্ত্রিক এক অবিসংবাদিত নেতা। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করেছেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন শক্তিশালী গণতন্ত্রই পারে দেশের টেকসই উন্নয়ন। সেই লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ৩০ নভেম্বর এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৯৮৯ সালের ২৭শে জানুয়ারী তারিখের কথা উল্লেখ করেন। নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি ও শর্ত পূরণের জন্য দুই দফায় পিছিয়ে ১৮ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারও জনগণ জিয়াউর রহমানকে নিরঙ্কুশ সমর্থন ব্যক্ত করে তাঁর দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’কে ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন উপহার দেয়। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সব সময় জয় লাভ করে। স্বনির্ভর বাংলাদেশের গড়ার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। জনগণকে সুসংগঠিত ও কাজে অনুপ্রাণিত করতে জেনারেল জিয়া গ্রাম-গঞ্জ সফর করে নিজ হাতে কাজ করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তলাবিহীন হিসেবে পরিচিত দেশকে একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত করেন। খাদ্য উৎপাদনে দিগুণ সফলতা অর্জন করে বাংলাদেশ। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৮১ সালে ৩০শে মে বিপথগামী কিছু সংখ্যক সেনা সদস্যের হাতে শাহাদাৎ বরণ করেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া। অস্তমিত হল বাংলার রবি। ক্ষণজন্মা এই নেতার মৃত্যু পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়। জাতি যখন শোকে বিহ্বল সেই সুযোগে ২৪শে মার্চ ১৯৮২ সালে রাতের অন্ধকারে জেনারেল এরশাদ বঙ্গভবনে ঢুকে বন্দুকের নলের মুখে রাষ্ট্র ক্ষমতা কেড়ে নেই। রচিত হতে থাকে জাতীয় জীবনে এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। জাতি স্বৈরাচার এরশাদের জাঁতাকলে প্রায় নিষ্পেষিত। শুরু হল দেশনেত্রী, আপোষহীন নেত্রী, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। দীর্ঘ আন্দোলন,সংগ্রাম, ত্যাগ- তিতিক্ষার ও জীবনের বিনিময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃতে জনগণ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। আওয়ামীলীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল, এমনকি কিছু বিএনপি’র বিশ্বাসঘাতক নেতা স্বৈরাচার এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিল। কঠোর আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী শক্তি হারিয়েছে জেহাদ, ডাঃ মিলন সহ অনেক অকুতোভয় সৈনিকদের। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে জনগণের সাথে থেকে গণতন্ত্র মুক্ত করেন। তারই পুরস্কার হিসেবে  দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরশাসনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে। ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বে প্রথম মুসলিম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন।
৪)
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া আদর্শ, মুল্যবোধ ও স্বনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরালস ভাবে কাজ করে যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থেকে আওয়ামীলীগ হিংস্র হায়েনার মত বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা বিএনপি’র নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে লাগাতার হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ করে দেশে এক অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশকে অচল ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। সবকিছুতে ব্যর্থ হয়ে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর মুক্তমত
  • আসুন ভালোবাসার লড়াই করি
  • রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার জন্য দায়ী কারা?
  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনার করনীয়
  • সাইদুর এবং..
  • ‘বঙ্গশার্দূল’ ওসমানী অবহেলিত কেন ?
  • "খন্দকার মোশতাক চক্রের প্রেতাত্নারা নানা মুখোশে রাজনীতি করছে সর্বত্র"
  • নোবেল কি পাবেন শেখ হাসিনা?
  • ‘ঈদ’-‘ইদ’ বানান বিতর্ক, বাস্তবতা ও একটি প্রস্তাব
  • বাঙ্গালি দ্বারা রোহিঙ্গা নির্যাতন..!!!
  • হায় হেফাজত!
  • ‘আমরা সামরিক ভাষায় কথা বলতে চাই’
  • জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বিএনপি’র
  • কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি দেশ
  • প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব
  • মাহবুব আলী খান 
  • বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্বাসন রাষ্ট্র ক্ষমতা নাকি নির্বাসন?
  •   প্রবাসী বিএনপির কাণ্ডারি মুকিব : তপ্ত মরুর বুকে চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ
  • প্রসঙ্গ: ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন
  • তাদের নিরবতাই বড় প্রমাণ
  • ভুয়া অ্যাওয়ার্ডের মতোই কী রামপালের অনাপত্তি?
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।