ঢাকা | বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
মুক্তমত সাজিদ আব্দুল্লাহ সাঈফ 

বাঙ্গালি দ্বারা রোহিঙ্গা নির্যাতন..!!!

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০১৭ ইং । ০৫:৫৬:১৭

অবাক হচ্ছেন শিরোনাম দেখে? অবাক হওয়ার কিছুই নাই।আপনি বা আমি যেমন রোহিঙ্গাদের গড়ে দেওয়ার জন্য নিজেকে বিসর্জন দিচ্ছি রাত দিন না খেয়ে না ঘুমায়। ঠিক তার বিপরীত ও আছে কিছু মানুষ। স্বচক্ষে তার বাস্তবতা দেখে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
বিগত আট তারিখ আমিসহ আমাদের চারজনের একটা টিম বালুখালী ক্যাম্প,কুতুপালং ক্যাম্প, শাপলাপুর সীমান্ত,ঘুণধুম সীমান্ত ও শাহপরীর দ্বীপ হয়ে নাফ নদীর তীরে বাস্তবতা দেখতে আট ঘন্টার অবস্থান নিয়েছিলাম।
তার মধ্যে আমরা জানতে পারি টেকনাফ সহ উখিয়ার পরে প্রতিটা স্বর্ণের দোকান,বিকাশের দোকানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত পণ্যের দাম দ্বিগুণের বেশ বাড়িয়ে দিয়েছে।তার প্রেক্ষিত আমরা স্বর্ণের দোকানে অবস্থান নিই।দোকানে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলাম কিছু যুবক দাঁড়িয়ে আছে দোকানের ভিতরে,জানতে পারলাম তারা স্থানীয় সাংসদ বদির লোকজন।রোহিঙ্গারা যে সকল স্বর্ণ বিক্রির জন্য নিয়ে আসে তারা তা খুব নিম্ন মূল্য (ভরি প্রতি ১০-১৫) হাজার দিয়ে কিনে নিচ্ছে। যেখানে আপনি বা আমি তার ন্যায্য মূল্য দিয়ে ক্রয়েরও সুযোগ নাই।সব তারাই নিবে।
দ্বিতীয় পয়েন্ট দেখুন,
আমরা যখন স্টীমার নিয়ে শাহপরীর দ্বীপে যাই,নেমেই গাড়িতে উঠতেই দেখলাম কিছু পুলিশ সদস্য আমাদের কয়েকজন বাঙ্গালি যুবক ছেলেকে শাটার গান দিয়ে তাড়া করতেছে।নেমে বাস্তবিক ঘটনা জানতেই বেরিয়ে এলো লোমহর্ষক দৃশ্য। শাহ পরীর দ্বীপ দিয়ে পার হওয়া কিছু সুন্দরী তরুণী রোহিঙ্গা যুবতিকে ঘরের মধ্যে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন ও পণ আদায়ের চেষ্টা করতেছে।অনেকদিন যাবৎ তাদের আটক রেখে ধর্ষণ ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেছে পুলিশ জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
তৃতীয় পয়েন্ট দেখুন,
শাহ পরীর দ্বীপ হয়ে আমরা যখন নাফ নদীতে অবস্থান নিই,তখন আগত রোহিঙ্গাদের বোট থেকে নামাতে গিয়েই দেখি করুণ দৃশ্য,যে সকল রোহিঙ্গা নারীরা বোট করে এপারে আসতেছে তাদের সমস্ত স্বর্ণালংকার কেড়ে নিচ্ছে বোটের মাঝিরা। ১০ মিঃ বোট পার করাতেই নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।তবুও মানুষগুলো জিবন বাঁচাতে সব দিয়ে হলেও দেশ ত্যাগ করতে পারাটাই যেন স্বস্থির। এক বোটে ৫০ জন থেকে তিন হাজার করে দশ মিনিটে হাতিয়ে নিচ্ছে দেড় লক্ষ টাকা।এভাবে প্রতি বিশ মিনিটে এক বোট আনতেছে,আর দেড় লক্ষ টাকা ইনকাম ২০ মিনিটে হয়ে যাচ্ছে। কালকে এক নিউজে দেখলাম শাহ পরীর দ্বীপের মাঝিরা রাতারাতি কোটিপতি।
বাস্তবতা আগেই দেখে আসছি।
চতুর্থ পয়েন্ট দেখুন,

তারা নাফ নদী দিয়ে কিছু পরিমাণ গরু,মহিষ নিয়ে আসতেছে এপারে।সেখানকার কিছু সরকার দলীয় লোকজন পরিচয় দানকারী তাদের সে সমস্ত গরু মহিষগুলো ১-৩ হাজার প্রতিটার মূল্য দিয়ে নিয়ে নিচ্ছে। তাদেরকে জোরপূর্বক বিক্রি করতেই হচ্ছে।পাচ্ছে না প্রকৃত ন্যায্য মূল্যটাও। সেখানে আপনি চাইলেও ন্যায্য মূল্যে নিতে পারবেন না সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে।
৫ম পয়েন্ট দেখুন,
চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আট পরিবারের কাছে গতকাল ১হাজার করে টাকা বিকাশ করি।যার মধ্যে তাদের পরিবারগুলোকে কুতুপালং এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ীরা টাকা দেয় ৭০০ করে। বাকি ৩০০ টাকার এখতিয়ার নাই। আরও না বলা আছে অনেক কিছু।বিশ্বাস না হলে স্বচক্ষে দেখে আসতে পারেন। আগেই বলেছিলাম,কেউ গড়ে দিচ্ছে কেউ লুটে নিচ্ছে।

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর মুক্তমত
  • আসুন ভালোবাসার লড়াই করি
  • রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার জন্য দায়ী কারা?
  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনার করনীয়
  • সাইদুর এবং..
  • ‘বঙ্গশার্দূল’ ওসমানী অবহেলিত কেন ?
  • "খন্দকার মোশতাক চক্রের প্রেতাত্নারা নানা মুখোশে রাজনীতি করছে সর্বত্র"
  • নোবেল কি পাবেন শেখ হাসিনা?
  • ‘ঈদ’-‘ইদ’ বানান বিতর্ক, বাস্তবতা ও একটি প্রস্তাব
  • বাঙ্গালি দ্বারা রোহিঙ্গা নির্যাতন..!!!
  • হায় হেফাজত!
  • ‘আমরা সামরিক ভাষায় কথা বলতে চাই’
  • জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বিএনপি’র
  • কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি দেশ
  • প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব
  • মাহবুব আলী খান 
  • বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্বাসন রাষ্ট্র ক্ষমতা নাকি নির্বাসন?
  •   প্রবাসী বিএনপির কাণ্ডারি মুকিব : তপ্ত মরুর বুকে চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ
  • প্রসঙ্গ: ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন
  • তাদের নিরবতাই বড় প্রমাণ
  • ভুয়া অ্যাওয়ার্ডের মতোই কী রামপালের অনাপত্তি?
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।