ঢাকা | সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
আইন আদালত

কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি !

বাংলাপেইজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-১১-২০১৭ ইং । ১৮:২৭:৪৯

১০ নভেম্বর পদত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সংবিধান অনুযায়ী এখন প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য। যে প্রশ্নটি বড় হয়ে এসেছে, পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন কে?

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো কোনো প্রধান বিচারপতি এমন আলোচিত হলেন। আর পদত্যাগের ঘটনাও এবারই প্রথম। এখন ২২তম প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন, সেটা নিয়েই এখন সবার আগ্রহ।

গত ১০ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ১৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার তা গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।

এর একদিন পর আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে একজন সাংবাদিক বলেন, বর্তমানে প্রধান বিচারপতি নেই। এটা সংকট সৃষ্টি করবে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সমস্যা নয়। সংবিধানে প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বা পদত্যাগ করলে কী হবে বা কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা বলা আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।

‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি অ্যাপয়েন্ট (নিয়োগ) করেন। তো সেই ক্ষেত্রে উনি কখন, কোথায়, কেমন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন, সেটা আমি বলতে পারি না’, বলেন আইনমন্ত্রী।

তবে প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের প্রবীন বিচারপতি মো: আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান বিচারপতি পদের শূন্যতা বেশি দিন থাকা উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া উচিত।

তাদের মতে, স্বাভাবিকভাবে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এটাই প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ট্রাডিশন। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া এ ট্রাডিশন ভঙ্গ করা ঠিক হবে না। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মতে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে কী হবে তা সংবিধানে বলা আছে।
বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।’

সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।’

এ ছাড়া সংবিধানের ৯৬ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’

আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রথমে রয়েছেন। অপর চার বিচারপতি হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। রাষ্ট্রপতি চাইলে তাদের মধ্য থেকে যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন।

দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতির চাকরির বয়স আছে ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর আগে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিয়ার আপিল বিভাগে আসা বিলম্বিত হয়েছিল বলে আলোচনা রয়েছে। তার পরে থাকা বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের মেয়াদ আছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। তিনি এবার প্রধান বিচারপতি না হলেও জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী তার সুযোগ থাকবে।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এর আগে দুবার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার পরে আছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তিনি অবসরে যাবেন ২০২৩ সালে। এরপরে আছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তাঁরও অবসরের তারিখ ২০২৩ সাল। আর বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অবসরে যাবেন ২০২১ সালে।

একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে আপিল বিভাগে বিচারক সংখ্যা ১১ নির্দিষ্ট করা আছে। বর্তমানে আছেন ৫ জন। জরুরি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখন মামলার চাপ আগের থেকে কম। আর বিচারকসংখ্যা কমবেশি হয়। আর ১১ জন হলো সর্বোচ্চ সীমা।

বাংলাপেইজ/ইমরান/এডমিন

শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।