ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
নতুন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের প্রাচীরে উঠায় এক যুবক গ্রেফতার: শর্তসাপেক্ষে মুক্তি বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের ইতি কাতার-সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের খবর সর্ম্পণ মিথ্যা বানোয়াট: মধ্যে প্রাচ্যে বিএনপি আগামীকাল ফ্রান্স ডেমনস্ট্রেশনে  যোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির  ২ শতাধিক  নেতাকর্মী দলীয় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : যুক্তরাজ্য বিএনপির  বিবৃতি নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ নিরাপত্তার স্বার্থে ৬০ কোটি সিসি ক্যামেরায় নজরদারীতে আসবে চীন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনঃ আধুনিক নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক

মিয়ানমারের শিন রাজ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভারতে ছুটছে স্থানীয়রা

বাংলাপেইজ ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১১-২০১৭ ইং । ১৮:২৩:৫৭

এবার মিয়ানমারের শিন রাজ্যে আরাকান আর্মির বিদ্রোহী ও দেশটির সেনাবাহিনীর সদ্স্যদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে বলছে, শিন রাজ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘর্ষে সেখানকার বাসিন্দারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে মিয়ানমার। এর মাঝেই শিন রাজ্যে আরাকান আর্মির সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে মিয়ানমার থেকে শত শত মানুষ ভারতে ঢুকছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার জেরে সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ২২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে।

দ্য হিন্দু বলছে, এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ মিয়ানমারের শিন রাজ্য থেকে ভারতে ঢুকে পড়েছে। ভারতের দক্ষিণের প্রদেশ মিজোরামের পর্বত অঞ্চলের চারটি প্রত্যন্ত গ্রামে পালিয়ে আসা নারী, শিশু ও পুরুষরা আশ্রয় নিয়েছে। মিজোরামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ত্রাণ সরবরাহ করেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিধ্বস্ত রাখাইন প্রদেশ লাগোয়া শিন প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পালেতওয়া এলাকায় আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে কয়েকশ’ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

দ্য হিন্দু বলছে, ভারতে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের এই নাগরিকরা বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী; যারা দক্ষিণ মিজোরামের বাসিন্দাদের মতোই আদিবাসি ভাষায় কথা বলেন।

মিজোরামের লংলাই জেলার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ভারতীয় এই দৈনিক বলছে, শিন রাজ্যের অস্থিতিশীলতায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ার ঘটনা গত কিছুদিনের মধ্যে চারবার ঘটলো।

চলতি মাসের শুরুর দিকে শিন রাজ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পালেতওয়া এলাকায় আরাকান আর্মির সদস্যদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অন্তত ১১ সদস্য নিহত ও আরো ১৪ জন আহত হয়।

গত ৯ নভেম্বর মিয়ানমারের দৈনিক দ্য ইরাবতি দেশটির সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, হতাহতের ওই ঘটনা ঘটেছে কালাদান নদীতে একটি নৌকা লক্ষ্য করে আরাকান আর্মির গোলা নিক্ষেপের পর।

দ্য হিন্দু বলছে, রাখাইনের পার্শ্ববর্তী এই রাজ্যে গত ৮ নভেম্বর থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। পালেতওয়ার পাশের দুটি গ্রামে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শিনের এই সংঘর্ষের ঘটনার পর রাখাইনের উত্তরাঞ্চলেও দুই পক্ষের লড়াই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাখাইন ও শিন প্রদেশে আরাকান আর্মির সদস্যরা ক্রমান্বয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তারা।

২০১৬ সালে দেশটির বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকারের শান্তি-প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়। সেই সময় শান্তির প্রক্রিয়ার একটি রেফারেন্স গাইডে বলা হয়, আরাকান আর্মি গঠিত হয়েছে ২০০৮ সালে। জাতিগত রাখাইন জনগোষ্ঠীর জন্য স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গঠনই এই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।

অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) মিত্র গোষ্ঠী হচ্ছে আরাকান আর্মি (এএ)। তাদের অর্ধেকের বেশি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয় কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি। আরাকান আর্মির অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ও কেআইএ নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। রাখাইনের কিয়াকত্য, ম্রক-ইউ ও মিনবিয়াসহ শিনের পালেতওয়া এলাকায় সক্রিয় রয়েছে আরাকান আর্মি।

কেআইএ, এএ ও তা’আঙ ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট ও কোকাংভিত্তিক মিয়ানমার ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি মিলে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স নামে একটি জোট গঠন করেছে। ২০১৫ সালে দেশটির বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের স্বাক্ষরিত দেশব্যাপি জাতীয় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থেকেছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স।

গত বছর সীমান্ত বাণিজ্য অঞ্চলে একাধিকবার হামলা ও মান্দালয়-ল্যাসিও-মিউস মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তা সাময়িক বন্ধ করে রাখে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। এ ঘটনার পর শান রাজ্য কর্তৃপক্ষ নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।

সূত্র : দ্য হিন্দু, দ্য ইরাবতি।

#এস আর/বাংলাপেইজ

শেয়ার করুন
সাম্প্রতিক খবর
সর্বশেষ খবর আন্তর্জাতিক
  • নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ
  • নিরাপত্তার স্বার্থে ৬০ কোটি সিসি ক্যামেরায় নজরদারীতে আসবে চীন
  • বৃটেনে ভারী তুষারপাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
  • জাতিসংঘে জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রর বিরোধীতায় মিত্ররা
  • অগ্নিগর্ভ ফিলিস্তিনে নিহত ১, আহত দুই শতাধিক
  • পেন্স-আব্বাস বৈঠক বাতিল না করতে ফিলিস্তিনকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি
  • জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণায় বিশ্বে সমালোচনার ঝড়
  • পিএইচডি অর্জন করেও সাধারণ কৃষক
  • স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে ফিনল্যান্ডে স্বপ্নময় উৎসব
  • জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা
  • ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার
  • বোমা হামলায় ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ নিহত
  • শেখ হাসিনাকে ‘বোন’ ডাকলেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী
  • কি ঘটছে সৌদি আরবে: হঠাৎ কেন এতো পরিবর্তন
  • দুর্নীতির অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
  • মুসলিম জনসংখ্যা যেভাবে বদলে দিতে পারে ইউরোপের চেহারা
  • আজও পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি , সরকারের ওপর ক্ষুব্দ চুক্তি সম্পাদনকারী জনসংহতি সমিতি
  • চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করলেন সু চি
  • ট্রাম্পের তিন মুসলিম বিদ্বেষী টুইটের নেপথ্যে
  • মিয়ানমারের শিন রাজ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভারতে ছুটছে স্থানীয়রা
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।