ঢাকা | শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সংসদ অধিবেশনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অনুপস্থিত: চিফ হুইপের চিঠি বিশ্বনাথের প্রবীণ মুরব্বী আলহাজ্ব আলতাবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন: ইসলামী ছাত্র সংস্থার শোক আমি দেহ চাইনারে-চাই যে একটা মন:ইতালী প্রবাসী আবু সাইদ খানের লেখা গানে কন্ঠ দিলেন মমতাজ জিয়াউর রহমানের শাসন আমল ছিলো বাংলাদেশর স্বর্ণযুগ: আহমদ আলী মুকিব স্পেনে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার স্টল উদ্বোধন করলেন রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ জিয়াউর রহমান ছিলেন সফল রাষ্ট্রনায়ক ও বিশ্বনেতা : বেলজিয়াম বিএনপি অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে আর্থিক সহায়তা দেবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিজ নির্মাণ করে ফ্রান্সকে যুক্ত করার প্রস্তাব: বিদ্রুপের শিকার ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বনাথে ১০ম টি-২০ ক্রিকেট লীগের উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জের সেই অস্ত্রধারী নিয়াজুল লাপাত্তা:থানায় অভিযোগ!
সিলেট শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষনে নেই কোন উদ্যোগ

৪৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জে কাইয়ার গুদাম

হাসান চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ( সিলেট )থেকে: প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১২-২০১৭ ইং । ১৮:৩১:৫৫

ফেঞ্চুগঞ্জের কাইয়ার গুদাম। ১৯৭১ সালে মুক্তিকামী বাঙ্গালীরা এই গুদামের নাম শুনলেই কেঁেপ উঠতেন । কারণ তখন ওই গুদামেই ছিল পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ও টর্চার সেল। ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাঙ্গালীদের ধরে আনা হতো এখানে। শারীরিক নির্যাতন করে আধমরা অবস্থায় হাত পা বেধেঁ পাশেই বয়ে চলা কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়া হতো। নদী তীরে ছিল একটি চকি। কাউকে আবার ওই চকিতে তুলে বেয়নেট চার্জ করে ভাসিয়ে দেয়া হয় । ওই সময় অসংখ্য লাশ নদীতে ভাসতে দেখলেও পাক মিলিটারির ভয়ে কেউ লাশ উদ্ধারে এগোবার সাহস পায়নি। বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের তরুনী ও যুবতীদের  এই গুদামে এনে জড়ো করা হতো। রাতের পর রাত চলতো পাক বাহিনীর দানবীয় নির্যাতন। অনেককে আবার  চাহিদা মতো সিলেট বিভাগের বিভিন্ন মিলিটারি ক্যাম্পে সরবরাহ করা হয়। আখাউড়া,কুলাউড়া,শ্রীমঙ্গল প্রভৃতি এলাকার নারী-পুরুষদের পর্যন্ত  ট্রেনে করে  ফেঞ্চুগঞ্জের কাইয়ার গুদামে আনা হয়। গুদাম সংলগ্ন শিমুল গাছে মাচা বানিয়ে সাটানো হয়েছিল  পাকিস্তানী আর্মিদের অপি পোস্ট (দুর্বিক্ষণ যন্ত্র)। যা দিয়ে হাকালূকি হাওর কিংবা কুশিয়ারা নদী দিয়ে ইন্ডিয়া থেকে কোনো জাহাজ কিংবা বিমান আসছে কিনা তা পরখ করতো। স্বজন হারানো শহীদ পরিবারের নিকটজনরা যারা জীবিত আছেন এখনও তারা কাইয়ার গুদামে ছুটে আসেন, দেয়াল, দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রজন্মের  নাতিপুতিদের কাইয়ার গুদামের নির্মমতার কাহিনী বর্ণনা করেন আর ডুকরে কেঁেদ ওঠেন।  প্রাণোচ্ছ্বল বয়ে চলা কুশিয়ারার প্রতিটি ঢেউ, শিমুল গাছ, কাইয়ার গুদামের দেয়াল, দরজা, মেঝে আজও যেন নিরব সাক্ষী হয়ে আছে। শহীদদের স্মৃতি হিসেবে কাইয়ার গুদাম ও নদী তীরকে এখনো সংরক্ষন না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের পরিবারবর্গ।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  ১৯৭১ সালের ১১ই ডিসেম্ভর ফেঞ্চুগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়। এর পর পরই মানুষ ছুটে যায় কাইয়ার গুদামে। দেয়াল,মেঝে চারিদিকেই রক্তের দাগ। শাড়ী, ব্লাউজ, সেলোয়ার, কামিজ, লু্িঙ্গ, শার্টের ¯তুপ পড়েছিল গুদামের কোনায়। চেনা কাপড়গুলো জড়িয়ে ধরে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিল স্বজনরা। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পাকিস্তান আমলের বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সদস্য মো: আকরাম আলী জানান, যুদ্ধ করতে করতে ৮ ডিসেম্ভর তিনি ও তার দল ফেঞ্চুগঞ্জ প্রবেশ করেন। ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় ৪ জন পাক মিলিটারিকে আটক করে কুলাউড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সোর্পদ করেন। ১১ ডিসেম্ভর ফেঞ্চুগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়। পরে তিনি কাইয়ার গুদামে ছুটে আসেন। গুদামের  ভেতরের অবস্থা দেখে তিনি চোখের পানি সামলাতে পারেননি। আকরাম আলী বলেন, চারিদিকেই রক্তের দাগ। দুই কক্ষ বিশিস্ট ওই গুদামের প্রথমটিতে মিলিটারিরা বসতো এবং পেছনের কক্ষটি ছিল টর্চার সেল। পেছনের বৃহৎ কক্ষের কোনায় কয়েকটি ড্রামের সন্ধান পান, যেগুলো রক্তে ভরপুর ছিল। এই গুদামে অসংখ্য মানুষকে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন করে হত্যার পর কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি কাইয়ার গুদামের ভেতর সরজমিনে পরিদশন করে দেখা গেছে, গুদামের প্রধান দরজাগুলো আজও বন্ধ। ভেতরে এক ভুতুরে পরিবেশ। গুদামের প্রায় অর্ধেকটার ওপরের টিন নেই।  উচু দেয়াল। শিমুল গাছটি আজও আছে। ফেঞ্চুগঞ্জ্ উপজেলার পশ্চিম বাজারস্থ ছএিশ মৌজায় ২২ শতক জমির ওপর পাকিস্তান আমলে খোকা চান ভাটিয়ারীর ছেলে মানিক চান ভাটিয়ারী মালিকানাধীন ছিল এই গুদাম। তখন এটি মুলত পাটের গুদাম ছিল যা কাইয়ার গুদাম নামে পরিচিত ছিল। কথিত আছে কাইয়া নামের এক মারোয়ারী ব্যবসায়ীর নামানুসারে এটির নাম হয় কাইয়ার গুদাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুমানিক দেড় বছর পূর্ব থেকে কাইয়ার গুদাম সরকারী দখলে আছে। এখনো এই গুদামের সম্মুখভাগ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 কাইয়ার গুদামে পাক মিলিটারিরা ক্যাম্প বানানোর পর ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাদের ধরে আনার পর আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি তাদের মধ্যে- বিশিষ্ট্য ক্রিড়া সংগঠক ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অন্যতম ভুমি দাতা সদস্য মাইজগাঁও এলাকার নজরুল ইসলাম পংকি, ফেঞ্চুগঞ্জ থানার তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ইসলামপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান বাচ্চু, যাদের মৃত্যু দিবসে ফেঞ্চুগঞ্জে এখনও নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। শহীদ আসাদ্জুজামান বাচ্চুর নামে ইতিমধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের একটি সড়ক ও তার বাবা আছকির আলীর নামে একটি  ব্রিজের নামকরণ করা হয়েছে। কাইয়ার গুদামে এনে আরো যাদের মারা হয় তারা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের কর্মধা গ্রামের পরেশ চন্দ্র পালের ছেলে শ্রী পানুলাল পাল, পাঠানচক গ্রামের মৃত আহমদ আলীর ছেলে নবীর আলী, খিলপাড়ার মৃত তবারক আলীর ছেলে মানিক মিয়া, আশিঘর গ্রামের মৃত জহির আলীর ছেলে সোলেমান চৌধুরী, বাদেদেউলি গ্রামের হাসিব আলীর ছেলে মো: ফজলু মিয়া, মানিককোনা গ্রামের আব্দার আলীসহ নাম না জানা অসংখ্য মানুষ। কাইয়ার গুদামের শিমুল গাছের তলায় কথা হয় মাইজগাঁও এলাকার ষাঠোর্ধ্ব আমিরুন্নেছার সাথে। জিজ্ঞেস করলে আমিরুন্নেছার একমাত্র ছেলে রজব আলী জানান, কয়েকদিন পর পরই তার মা তাকে এখানে নিয়ে আসেন। কাইয়ার গুদামের দেয়াল ধরে আজও তিনি কান্না করেন। আমিরুন্নেছা জানান, ১৯৭১ সালের রমজান মাসের শবে কদরের রাতে পাক মিলিটারিরা রাত ২টার দিকে তার বাড়ি গিয়ে তার স্বামী মো: জোনাব আলীকে ধরে আনে।  নিকটজনদের নিয়ে রেললাইন ধরে কাইয়ার গুদামের কাছাকাছি তারা ছুটেও আসেন। ভোর হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এই আশায় যে মিলিটারিদের কাছে মিনতি করে তার স্বামীকে ছাড়িয়ে আনবেন। কিন্তু ভোর হওয়ার আগেই কাইয়ার গুদামে গগন বিদারী গুলির আওয়াজ শুনতে পান। পূর্ব গগণ ফর্সা হয়ে আসলে ছুটে যান কাইয়ার গুদামে, কিন্তু তার স্বামীকে আর ফিরে পাননি। আমিরুন্নেছা জানান, হানাদাররা যখন তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় তখন তার ৪,৬ ও ৮ বছরের  ২ মেয়ে ও এক ছেলেকে  বুকে জড়িয়ে মিলিটারির সামনে হাজির হয়ে মিনতি করেছিলেন ছেড়ে দেয়ার জন্য। মিলিটরিরা তখন তাঁকে অভয় দিয়েছিল একটি সাক্ষর রেখেই ছেড়ে দেয়া হবে। যাওয়ার সময় জোনাব আলী তাকে বলেছিলেন ‘ আমিরুন যাইয়ারগি আমার বাচ্চাগুইনতরে তুমি দেখিয়া রাকিও’( চলে যাচ্চি আমিরুন তুমি আমার ছেলে মেয়েদের দেখে রাখিও) কথাগুলো বলতে বলতে ডুকরে কেঁেদ ওঠেন আমিরুন্নেছা। চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পার হলো আজও স্বামীর নামটি শহীদ হিসেবে সরকারী তালিকাভুক্ত হয়নি। বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কোনো সাহায্যের আশায় নয় স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে এই আশায় তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছি।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক ফিরোজ জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনিসহ ফেঞ্চুগঞ্জের বেশীর ভাগ মুক্তিযোদ্ধা দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকায় ঠিক কতজনকে কাইয়ারগুদামে এনে মারা হয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে সেই সংখ্যা অসংখ্য হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। উপজেলার কর্মধা গ্রামের শ্রী পানুলাল পালকে নদী তীরের চকিতে গভীর রাতে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিযে আধমরা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। ভাসতে ভাসতে চানপুরের দিকে গেলে মুমুর্ষ অবস্থায় গ্রামবাসী পরদিন তাকে উদ্ধার করলেও ফের তাকে মিলিটারির হাতে তুলে দিলে আর বাচাঁনো যায়নি পানুকে। তিনি বলেন, ২০০৬ সালেও তিনি কাইয়ার গুদামে রক্তের দাগ প্রত্যক্ষ করেছেন। উপরের টিন ধসে পড়ায় বৃষ্টি বাদলে ওই দাগগুলো এখন আর নেই।। ১৯৭১ সালে কাইয়ার গুদামে মাইজগাঁও এলাকার আইয়ুব আলী নামের এক মেস্তরি কাজ করতো, যিনি এখন আর বেঁেচ নেই। আইউব আলী মেস্তরির  বরাত দিয়ে নজরুল ইসলাম পংকি মিয়ার ভাগ্না তৎকালীন পুলিশ বাহিনীর সদস্য মুহিবুল ইসলাম ছতু মিয়া জানান, তার মামা নজরুল ইসলাম পংকি মিয়াকে ১৯৭১ সালের ১৮ই আগস্ট ধরে প্রথমে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময়কার থানার ওসি পংকি মিয়াকে  দেখে চিনে ফেলেন,এবং তাকে ছেড়ে দিতে হানাদারদের অনুরোধও করেন, কিন্তু ওই সময় জনৈক এক রাজাকার পাঞ্জাবীদের ইশারা করেন যে এই লোক জ্ঞানীগুনি পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন। এই কথা শুনেই পাক মিলিটারি পংকি মিয়াকে কাইয়ার গুদামে নিয়ে যায়। সন্ধায় মিলিটারিরা নজরুল ইসলাম পংকি মিয়াকে  লাটি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। হৃদরোগে আক্রান্ত পংকি মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যা আইউব আলী মেস্তরি দুর থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। পরদিন পংকি মিয়ার স্বজনরা কাইয়ার গুদামে ছুটে গিয়ে মিলিটারিদের কাছে মিনতি করেন তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। তখন মিলিটারিরা কুশিয়ারা নদীর দিকে ইঙ্গিত করে তাদের জানায়, ‘নাদিয়াকো পুছলো পানচি কাঁহা হ্যায়’ (এই নদীকে জিজ্ঞেস করো পংকি কোথায়)। ছতু মিয়া বলেন, ঘটনার একদিন পর ফেঞ্চুগঞ্জের চানপুর গ্রামের মনু মিয়া  তাদের আত্মীয় স্বজনকে জানান, নজরুল ইসলাম পংকির লাশ তিনি নদীতে ভেসে যেতে দেখেছেন। কিন্তু মিলিটারির ভয়ে কেউ তখন পংকি মিয়ার লাশ উদ্ধারে এগিয়ে যায়নি। হাবিবুল ইসলাম শাহ জানান, ৭১ সালে কাইয়ার গুদামে অসংখ্য মানুষকে নিয়ে নির্যাতন করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতু থেকে ভাটির দিকে কয়েক কিলোমিটার কুশিয়ারার তল দেশে এখনও হয়তো মানুষের কংকাল রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দীন ইসকা বলেন,  স্বাধীনতার পক্ষে ভুমিকা রাখা ফেঞ্চুগঞ্জ ও পার্শ¦বর্তী বিভিন্ন উপজেলার বীর বাঙ্গালীদের ধরে এনে পাক বাহিনী কাইয়ার গুদামে নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতেছিল। কাইয়ার গুদাম নদী তীরে হওয়ায় হত্যা প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্থানান্তরে সহজতর ছিল বলেই পাক হানাদাররা কাইয়ার গুদামকে ক্যাম্প ও টর্চার সেল বানায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার প্রথম ক্ষমতায় আসলে কাইয়ার গুদাম ও নদী তীরকে শহীদদের স্মৃতি হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের লিখিত দাবী জানানো হয়। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।


উপজেলার প্রবীন অনেকেই জানান,  ফেঞ্চুগঞ্জ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাজনগর, বালাগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখাসহ দুরদূরান্ত থেকে অগনিত মানুষকে কাইয়ার গুদামে ধরে আনা হতো। যারা আর বাড়ি ফিরে যেতে পারেনি। কাইয়ার গুদামকে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় এখনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জের মুিক্তযোদ্ধাসহ সকলে।
ক্যাপশন (১) এই সেই শিমুল গাছ যার উপর পাক হানাদাররা অপি পোস্ট স্থাপন করেছিল। (২)কাইয়ার গুদামের বন্ধ দরজা। গুদামের পুর্ব পাশের দেয়াল। কাইয়ার গুদামের ভেতরের অংশ।

 

#এস আর/বাংলাপেইজ



।     

শেয়ার করুন
সাম্প্রতিক খবর
সর্বশেষ খবর সিলেট
  • জামালগঞ্জে গ্রাম পুলিশদের বেতন স্কেলের দাবীতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন ও স্বারকলিপি প্রদান
  • চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ
  • জামালগঞ্জে হাওররক্ষা বাধঁ নির্মাণে মনিটরিং কমিটি পিআইসিদের সাথে কর্মশালা
  • ছাতকে গোবিন্দগঞ্জ লতিফিয়া ইসলামি সমাজ কল্যাণ সংস্থার কমিটি গঠন
  • সিলেট সংলাপ’র বার্তা সম্পাদক পদে খালেদ আহমদ
  • দিরাইয়ে স্কুল ছাত্রী মুন্নি হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন
  • ৪৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জে কাইয়ার গুদাম
  • শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের শ্রদ্ধা নিবেদন
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জেলা যুবলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী
  • ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে সেকেন্ড চান্স এডুকেশনের কাজ প্রসংশনীয় : আশফাক আহমদ
  • ব্যবসায়ী অপহরণে দুই পুলিশ সদস্য আটক, মামলা
  • করুনা সিন্ধু সুনামগঞ্জের শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য নির্বাচিত
  • সিলেটে জংঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তদের স্থান নেই- ফয়সল মাহমুদ
  • হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি
  • পূবালী ব্যাংক স্টেশন রোড শাখার উদ্বোধন
  • স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানী কারনে বখাটের দু’মাসের কারাদন্ড!
  • বই ইতিহাসের সাক্ষী জীবনের কথা বলে-ড. আবদুল আউয়াল বিশ্বাস
  • বিপিএলের মাঠে বসেই সিগারেট ফুঁকছিলেন তিনি!
  • সিলেট নগরীতে কখন কোথায় স্মার্টকার্ড বিতরণ
  • ভারতীয় তীর খেলা প্রতিরোধে এয়াপোর্ট এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সভা
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।