ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
ঢাকা হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ শহর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনায় গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া নিউ ইয়র্কে হামলা : উদ্বেগে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাবেক ডেপুটি-মেয়রের নাম নতুন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের প্রাচীরে উঠায় এক যুবক গ্রেফতার: শর্তসাপেক্ষে মুক্তি বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের ইতি কাতার-সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের খবর সর্ম্পণ মিথ্যা বানোয়াট: মধ্যে প্রাচ্যে বিএনপি আগামীকাল ফ্রান্স ডেমনস্ট্রেশনে  যোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির  ২ শতাধিক  নেতাকর্মী
এক্সক্লুসিভ

মাদক বিরোধী মিছিলে মাদক ব্যসায়ীরা

বাংলাপেইজ রিপোর্ট: প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১২-২০১৬ ইং । ১৮:০৪:১০

মাদক বিরোধী মিছিল হচ্ছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে। আয়োজন করেছে জেনেভা স্পোর্টিং ক্লাব। সুন্দর, সচেতন এই আয়োজনটি দেখতে সড়কের দুই পাশে উৎসুক মানুষের ভীড়। কিন্তু মুহূর্তেই উৎসুক মানুষগুলো হতাশ হন। ক্ষুব্ধ হন অনেকেই। তাদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্নভাবে। ক্ষোভের কারণ মাদক বিরোধী মিছিলের সামনে ছিলো মাদক ব্যবসায়ী মাছুয়া শাহিদ ও মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগী ও ক্যাম্পের চেয়ারম্যান এস.কে গোলাম জিলানি। ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আয়োজকরা জানান, জোর পূর্বক মাদক ব্যবসায়ীরা ওই মিছিলে অংশ নেয়। ঘটনাটি গত ১৬ ডিসেম্বরের।


স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র জানা যায়, মোহম্মদপুরের মাদক ব্যবসার গডফাদারের নাম মাছুয়া সাঈদ। চুয়া সেলিম, ইশতিয়াক ও পঁচিশসহ কয়েকজন ওই ক্যাম্পে ইয়াবা ডিলার হিসেবে পরিচিত। এই চক্রটি মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ কওে ওই এলাকায়। এবং এদের সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে নন-লোকাল রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান এস,কে গোলাম জিলানির বিরুদ্ধে।

বৃহত্তর এলাকা এবং ঘিঞ্জি পরিবেশ হওয়ায় চাইলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির অল্প সংখ্যক সদস্য নিয়ে সেখানে অভিযান চালাতে পারে না। তবে বড় ধরণের অভিযানের খবর আগেই টের পেয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। আর তখনই তারা আশ্রয় নেয় ক্যাম্পেরই কোনো ঝুঁপড়ি ঘরে। তখন তাদের আশ্রয় না দিলে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয় ক্যাম্পের বাসিন্দাদের।

সন্ত্রাসীদের অত্যাচার ও মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে, সম্প্রতি তেজগাঁও জোনের ডিসির অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন ক্যাম্পবাসী। এর পরদিন সেখানে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর । এ সময় তাদের ওপর হামলা করে মাদক সন্ত্রাসীরা। পরে অধিক সংখ্যক পুলিশ নিয়ে সেখানে অভিযান চালালে চার মাদক ব্যবাসায়ী গ্রেফতার হয়। কিন্তু গডফাদার ও ডিলাররা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়রা জানান, ইয়াবা গডফাদার সাঈদ এক সময়ে বাজারের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী ছিলো। সাবেক ৪৫ নং ওয়ার্ড কমিশনারের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেয় সে। বিভিন্ন তদবিরে সীমা নামে এক সুন্দরীকে ব্যবহার করে দু’জনেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়। এক সময়ে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপর সীমা নিজে ক্যাম্পে সুদের ব্যবসা শুরু করে। আর সাঈদ সেখানের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয়। দু’জনেই গড়ে তোলে সন্ত্রাসী বাহিনী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই দলের নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে সাঈদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর মিজানের নাম ব্যবহার করে, সাঈদ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা নেয়। এসব অবৈধ টাকায় বছিলা ও ওয়ারিতে ফ্ল্যাট, সিলিকন হাউজিংয়ে প্লটসহ নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়েছে। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। অথচ স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে তার রয়েছে সখ্যতা।

চতুর সাঈদ নিজে আড়ালে থেকে ইয়াবা ডিলার নিয়োগ করেছে। তার নিয়োজিত ডিলারদের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা সম্রাট ইশতিয়াক, চুয়া সেলিম, সাহাবুদ্দিন, আলমগীর, মোল্লা আরশাদ, ইল্টা সালাম, ঢাকাইয়া নাদিম, জুম্মন, কুদ্দুস ও কালা রাজু। তাদের নিয়োজিত সেলসম্যান রয়েছে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ক্যাম্পের চেয়ারম্যান গোলাম জিলানীর সহযোগিতায় মাদক ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের কাজ করছে ইশতিয়াক ও মাছুয়া সাঈদ। এ ছাড়াও তার দলে আছে ইয়াবা সুন্দরী তরুনি পাপিয়া, কথিত মডেল সীমা বানু, পারভীন ওরফে সীমা কুরাইশী, রোজিনা আক্তার মর্জিনার মতো হাফ ডজন নারী ব্যবসায়ী। পাপিয়াকে ইয়াবাসহ পুলিশ একাধিকবার আটক করলেও ছেড়ে দেয়। অভিযোগ আছে, ক্যাম্প এলাকার কর্তব্যরত পুলিশের বিট সদস্যদের আড্ডা জমে পাপিয়ার ছোট্ট বাসায়।

অন্যদিকে আরও ডজনখানেক মাদক ব্যবসায়ী আছে, যারা জিলানী গ্রুপের প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে জিলানী ও অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মাঝে মধ্যেই ক্যাম্পে লোক দেখানো অভিযান চলে। এতে ধরাও পড়ে, তবে তারা অধিকাংশই জিলানীর প্রতিপক্ষের লোকজন। সবশেষ গত সোমবার বিকালেও পুলিশি অভিযানে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়। এ নিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষের লোকজন ওই এলাকায় বিক্ষোভ করে। সাদেক নামে জেনেভা ক্যাম্পের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ক্যাম্পের চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলেও পুলিশ ধরছে নিরীহ মানুষকে। কারণ মাদক ব্যবসা চালানোর জন্য জিলানী প্রতিমাসে পুলিশকে ৫ লাখ টাকা বখরা দিয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্যাম্পের এক চা বিত্রেতা বলেন, বহু দিন ধরে জেনেভা ক্যাম্পে অবাধে চলে আসছিল মাদক-ব্যবসা , ক্যাম্পের নেতারা চাইলেই এটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারতেন কিন্ত দুঃখের ব্যাপার আমাদের নেতারাই টাকার বিনিময়ে মাদকব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করেন। তবে প্রায় ১ মাস ধরে অভিযান চলছে জেনেভা ক্যাম্পে এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তেজগাও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সাহা। এই অভিযানের ফলে মাদক ব্যাবসায়ীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিশ তৎপর হওয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষও জেগে উঠেছে। মাদক বিরোধী মিছিল করছেন তারা। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের রক্ষা করতে সেই মিছিলে অংশ নিচ্ছে।

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর এক্সক্লুসিভ
  • খালেদার মামলার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই
  • ধনী-গরিবের প্রেম, অত:পর গরিব জেলে!
  • ফার্ম আর গোয়ালে তৈরি হয় লাচ্ছা সেমাই!
  • নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট
  • সবাই এখন দলের খাদেম
  • ফাঁসির আসামি না হয়েও সিলেটের খালিক ৭ বছর ফাঁসির সেলে !
  • বউকে কোটি টাকার গাড়ি উপহার দিলেন বাবলু
  • শ্রীমঙ্গলের সিরাজ শিকদার মদ মেপে মিলিয়নেয়ার!
  • মাদকের কবল থেকে মুক্তি চান উর্দুভাষীরা
  • মাদক বিরোধী মিছিলে মাদক ব্যসায়ীরা
  • আত্মসমর্পণ দলিলে সই নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা ছিল নিয়াজীর
  • সেই সুশান্ত পাল স্ট্যান্ড রিলিজ
  • ‘আলোকিত যুবশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে যুবলীগ’
  • কালশী হত্যাকান্ডে বেঁচে যাওয়া ফারজানা আবারো হাসপাতালে
  • ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী ওষুধ ইমিউনিথেরাপি ড্রাগ
  • জাল সার্টিফিকেটধারী শিক্ষকদের অপসারণ দাবি
  • মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তির দাবি
  • কিভাবে বুঝবেন আপনার দুধে পানি মেশানো আছে কি না?(ভিডিওসহ)
  • জেনে নিন, আপনার স্বপ্নের অর্থ কি? কোন স্বপ্ন কিসের ইঙ্গিত দেয়?
  • ৪ জেলার গ্যাস থাকবে না ৬ দিন
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।