ঢাকা | সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
শিল্প ও সাহিত্য সাক্ষাতকারে প্রবাসী লেখক পি আর প্ল্যাসিড

‘প্রেমই আমাকে এই পথে ডেকেছে’

প্রকাশিত হয়েছে: ২১-০২-২০১৭ ইং । ১২:১৩:৩৯

পি আর প্ল্যাসিড। জন্ম বাংলাদেশে। লেখাপড়াও করেছেন এখানে। তারপর দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে থাকছেন জাপানে। বিদেশে-বিভূঁইয়ে থাকলেও বাঙলা ভাষা, সংস্কৃতি লালন করছেন প্রতিনিয়ত। সুদূর জাপানের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও এতোটুকুু দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে। বিদেশে বসেই সাহিত্যচর্চা করেন। সুযোগ পেলেই পড়েন। লিখেন। সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর বিচরণ। দেশের অনেকের কাছেই লেখক হিসেবে একটি পরিচিত নাম পি আর প্ল্যাসিড। লেখালেখি ছাড়াও নাট্যকার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নাটক প্রযোজনা করেছেন। লিখেছেন। শুধু দেশে না, জাপানেও বিভিন্ন টেলিভিশনের সঙ্গে জড়িত তিনি। কবিতা দিয়ে শুরু। প্রেমই তাকে এই পথে ডেকে নেয়। তারপর প্রেমে পড়েছেন বারংবার।

এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ পেয়েছে তাঁর চারটি উপন্যাস। পারিজাত প্রকাশনী থেকে বের হযেছে জাপানি বধূ ও গর্ভধারিনী। বইপত্র প্রকাশন থেকে টোকিওর চিঠি ও পাখির বয়স ছিল কম। একান্ত আলাপচারিতায় সাহিত্যচর্চা, প্রেম ও প্রবাস জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই লেখক। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন, শরীফ সাব্বির ও সম্রাট খান।

কেন লিখেন পি আর প্ল্যাসিড? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশির দশকের শেষের দিকের কথা । আমি তখন ছাত্র। ওই সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছি। সাহিত্যেও লিখেছি। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সুইজারল্যান্ডের একটি সংবাদসংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি। জাপানে গিয়েও মনে হয়েছে সহজে টাকা আয় করা যায়। টাকা রোজগার করলেও সকল শ্রেণির সঙ্গে মেশা সম্ভব না। কিন্তু সাংবাদিকতা করলে তা সহজেই সম্ভব। এ বিষয়টি আমি তখন খুব মিস করতাম। যে কারণে জাপানে গিয়েও টাকা রোজগারের পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায়  জড়িত হন বলে জানান তিনি। পি আর প্ল্যাসিড বলেন, আমি তখন আজকের কাগজ পরে আমাদের সময়’র টোকিও প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছি। জাপানের প্রথম বাঙলা অনলাইন পত্রিকা বিবেকবার্তা’র সম্পাদকও তিনি।
তিনি বলেন, একটি কথা আছে ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই। সাহিত্যচর্চা সম্পূর্ণ আমার মন-মানসিকতার ব্যাপার। জাপানে গিয়েও মনের খোরাক যোগানোর জন্যই সুযোগ পেলেই সাহিত্যচর্চা করি। নিজের নানা অভিজ্ঞতা, ভাবনাকে নিজের লেখায় প্রকাশ করি।

নিজের প্রকাশিত বই সম্পর্কে তিনি জানান, জাপান-বাংলা দুই ভাষায় একটি বই সম্পাদনা করেছেন। বহুল আলোচিত এই বইটির নাম ‘হিরোশিমা কথা বলে’। বইটির মূল বিষয় হিরোশিমায় প্রথম পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের ফলে আহত সতের জনের দুঃসহ সেই স্মৃতি । যা তারা নিজ ভাষায় লিখেন। তা জাপানী ও বাংলা ভাষায় প্রকাশ করা হয়। বইটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়। পরবর্তীতে এই বইটি চাইনিজ ভাষায় প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে বইটি রুশ, ফ্রান্স, পিলিপিনও ভাষায় প্রকাশের কাজ চলছে।

তবে তাঁর সাহিত্যের প্রথম বই ‘অনুশোচনা’ সম্পর্কে পি আর প্ল্যাসিড বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি করুণ কাহিনী এতে প্রকাশ পেয়েছে। একজনের অহংবোধ। যা এক যুবকের এগিয়ে যাওয়ার পথে অগ্নি অনুপ্রেরণার মতো কাজ করে। নানা কষ্ট, যন্ত্রনাকে সঙ্গী করে যুবক এগিয়ে যান। অন্যদিকে অহংবোধকারী ব্যক্তির নানা কর্মে দুঃখভারাক্রান্ত হন স্বজনরা। একটা সময় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তিনি ক্ষমা চাইতে যান তার পিতার কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি পিতা। তার আগেই নিরবে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অনুশোচনা থেকেই যায়। এই অনুশোচনা আইনানুগ দন্ডের চেয়ে করুণ-কঠিন। যা তিলে তিলে কষ্ট দেয়।


কবিতা দিয়েই সাহিত্যে চলা শুরু। সাধারণত প্রেমই মানুষকে কবি করে তোলে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম না প্ল্যাসিড। এ বিষয়ে তিনি বলেন, যারা প্রেম করে না, তারা কখনও কবি হতে পারে না। কবি হতে গিয়ে এক সময় অনেকে সাহিত্যের অন্য শাখায় বিচরণ করেন। অনেকেই কথাসাহিত্যিক হয়ে যান। প্রেম একটা আর্ট। এটা জীবনের অংশ। জীবনকে কেন্দ্র করেই রচিত হয় সাহিত্য। আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতা ও ছোটগল্প দুটিই ছিলো প্রেমকে কেন্দ্র করে। আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম এখন তার নাম বলা ঠিক হবে না। তার সংসার, সন্তান হয়েছে। অবশ্য সেই সন্তানদের পিতা আমি হতে পারিনি। এই অপূর্ণতাই হয়তো সাহিত্যে আমাকে বেগবান করেছে। আমার প্রথম কবিতার শিরোনাম ‘চম্পার উদ্দেশ্যে’ এবং ছোটগল্পের নাম ‘চম্পার চোখে জল’।  বলা যায়- প্রেমই আমাকে এই পথে ডেকেছে।

কবিরা বারবার প্রেমে পড়ে এ বিষয়ে প্ল্যাসিড বলেন, কথাটি মিথ্যা না। আমার প্রেমিকা আমার বধূ না হলেও পরে প্রেম এসেছে বারবার। জাপানে যাওয়ার প্রাক্কালে দেশের এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিলো। দুজনে বিয়ে করবো, ঘর বাঁধবো এরকম স্বপ্ন্ ছিলো। কথানুসারেই দেশে ফিরতে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ততক্ষণে সে ভিন্নপথে পা দেয় ওই তরুণী। বিয়ে হয়ে যায় তার। অভিমানে আর দেশে ফেরা হয় না আমার। বন্ধ করে দেই লেখালেখি। তারপর নতুন করে আবার বাংলাদেশী এক মেয়ের প্রেম পড়ি। তার অনুপ্রেরণায়, ভালোবাসায় মুগ্ধ আমি। আবার লেখালেখি করি। তাকে নিয়েই লেখা- পাখি, পাখির প্রেম, পাখির বয়স ছিল কম – এই তিনটি বই প্রকাশ হয়েছে।

১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন প্ল্যাসিড। স্ত্রী জাপানী নারী ইউকি ক্যামিজো। তাদের একমাত্র ছেলে থাইও প্ল্যাসিড। নিজের স্ত্রীকে নিয়েই লিখেছেন ‘জাপানি বধূ’। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জাপানী নারীরা অত্যন্ত স্বামীভক্ত। স্ত্রী হিসেবে গোছানো। হিসেবি। এককথায় ভালো। তাকে বিয়ে করে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

পি আর প্ল্যাসিডের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২৯ মে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জের রাঙামাটিয়া গ্রামে। পিতা মাথিয়াছ রিবেরু, মাতা রোজা রিবেরু’র নয় সন্তানের মধ্যে তিনি অষ্টম। জাপানের টোকিওতে স্ত্রী, সন্তানের সঙ্গে থাকলেও সুযোগ পেলেই বিশেষ দিনগুলোতে ছুটে আসেন জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশে।

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর শিল্প ও সাহিত্য
  • নুহাশ পল্লীতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী পালিত
  • শাবি প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি মনসুর ও সম্পাদক ফয়জুল্লাহ
  • গণমানুষের কবি
  • কাকটি দেখেছিল তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে
  • দোহাই তোমার দাদা ঠাকুর, রক্ষে করো বাবা
  • বিশ্বকবির ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ
  • বব ডিলান অবশেষে নোবেল পুরষ্কার নিলেন
  • শেষ হলো দিরাইয়ের সাহিত্য উৎসব
  • সাঙ্গ হচ্ছে দিরাইয়ের সাহিত্য উৎসব
  • ‘প্রেমই আমাকে এই পথে ডেকেছে’
  • প্রকাশ ভঙ্গি , রীতি, কৌশল, বুদ্ধিদীপ্ততা এ সময়ের কবিতা
  • কবি লিনা লিসার কবিতার বই "ছায়াচিহ্ন" বই মেলায়
  • ‘দীন শরৎ বলে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
  • একুশে বই মেলায় হাবীবাহ্ নাসরিনের প্রথম উপন্যাস
  • সময়কে বিদ্ধ করা উপন্যাস ‘আহ্ পাকিস্তান’
  • ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা
  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ ঘোষণা
  • তরুণ সাহিত্যকর্মীদের সম্মাননা দিলো ‘কাব্যকথা’
  • নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় একুশে বইমেলায় থাকছে শ্রাবণ প্রকাশনী
  • সামসুল আরেফিনের মৃত্যুতে জাবির উপাচার্যেরর শোক
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।