ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
বিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ২০০০ টাকা! বাংলাদেশের ব্যাংক লুটপাটকারীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি সাংসদের ল্যাব এইডের সিসিইউতে নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভী:বিশ্রামে থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের যুক্তরাজ্যে বেক্সিট প্রস্তাবে দেশটির নিম্নকক্ষে সমর্থন লাভ দুঃখে-ক্ষোভে জ্বলছে বিশ্বনাথ আওয়ামীলীগ:যে কোন সময় গণ-পদত্যাগ! নরসিংদী ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইন স্পেন এর নেতৃবৃন্দ সর্বস্তরেরে প্রবাসীদের ভালোবাসায় সিক্ত হলে বাংলাদেশ অষ্ট্রিয়া ইকোনোমিক চেম্বার অফ বিজনেস এসোসিয়েশন এর সভা অনুষ্টিত ছাতক মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন করলেন সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন মিলন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে নয়াদিল্লি: সুষমা কক্সবাজারে বসতঘরে একই পরিবারের ৪ জনের লাশ
রাজশাহী

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচিতে অনিয়মের অভিযোগ

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৫-২০১৭ ইং । ২৩:০৩:২৯

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে দরিদ্র মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে নেয়া সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ ও কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়। ভিজিডি কার্ড প্রতি ৪হাজার থেকে সাড়ে ৪হাজার টাকা, ফেয়ার প্রাইজ কার্ডে ২ হাজার টাকা, কর্মসৃজন প্রকল্পে নতুন নাম অন্তর্ভুক্তিতে ৩ হাজার এবং পুরাতন নাম অন্তর্ভুক্তিতে ২হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হচ্ছে উপকার ভোগীদের।

এছাড়া ঢেউটিন বিতরণ ও সেলাই মেশিন বিতরনেও নেয়া হয় ভাগ। এ হিসাবে শুধুমাত্র ৫নং ওয়ার্ডে সরকারি সহায়তা দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার উৎকোচ বাণিজ্য করা হয়। লিখিত অভিযোগ ও তথ্য অনুসন্ধান করে দেখা যায়, টাকার বিনিময়ে এবং স্বজন প্রীতির আশ্রয় নিয়ে এসব অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করেন রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু। চেয়ারম্যান ইউপি পরিষদের মেম্বারদের যোগসাজসে এ অপকর্ম চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। অভিযোগে সূত্রে ৫নং ওয়ার্ডের চর নতুন বন্দর এলাকার এনসার আলীর চার স্ত্রী। দু’ স্ত্রীর নামে দেয়া হয়েছে ভিজিডি এবং দু’ স্ত্রীর নামে দেয়া হয় ফেয়ার প্রাইজ কার্ড। আছিয়া খাতুনের নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নম্বর-২০৩২, ফুলু খাতুনের নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নম্বর-২১০৭ এবং লাভলী আক্তারের নামে ভিজিডি কার্ড নম্বর-৪১৮ এবং মরিচা খাতুনের নামে ভিজিডি কার্ড নম্বর-৪১০।

ফুলবাড়ী গ্রামের আলতাফ’র ১১বিঘা জমি আর সাত কক্ষ বিশিষ্ট আধা পাকা বিল্ডিং থাকলেও তার স্ত্রী এজেদা’র নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড দেয়া হয়। এর নম্বর-২০৩১। ডিগ্রী চর গ্রামে আনোয়ার চেয়ারম্যানের কাছের মানুষ হওয়ায় একই পরিবারের ৫জনকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। আনোয়ারের নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নম্বর-২১৩৩, মেয়ে আকতারা খাতুন জামালপুরে শশুর বাড়িতে থাকলেও এই নামে ভিজিডি কার্ড নম্বর-৪৬৭। ছেলে শাহা আলমের নামে কর্মসৃজনের কার্ড নম্বর-২১৭৯, নাতী শাহিনুরের নামে কার্ড নম্বর -২১৪৮ এবং নাতনী ছাবিয়া খাতুনের নামে কর্মসৃজনের কার্ড নম্বর-২১৩৪। উত্তর ইজলামারী গ্রামের বাবুল মিয়া সৌদিতে কর্মরত থাকলেও তাঁর নামে কর্ম সৃজন কাজের কার্ড নম্বর-২৫৩। ফুলবাড়ী গ্রামের রহমত উল্লাহ্র পরিবারে সরকারি নিয়ম নীতি লংঘন কওে ৪টি সরকারি সেবা দেয়া হয়। রহমত উল্লাহ্র নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নম্বর-২০৪২, তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের নামে ভিজিডি কার্ড নম্বর-৪২৫ এবং পুত্র রমিছের নামে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড নম্বর-২০৪১।

এছাড়াও রহমত উল্লাহ্ও নামে ঢেউটিন বরাদ্দ এবং ছেলের স্ত্রীর নামে সেলাই মেশিন দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।চর ফুলবাড়ী গ্রামের ফুল মিয়া ও জোবেদ আলী অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র টাকা না দেয়ার কারণে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের গ্রামের হতদরিদ্র ৪০টি পরিবারের একই হাল বলে জানান। সাবলুর স্ত্রী জেলেখা ভিজিডি কার্ডের জন্য মেম্বারকে ৪হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। মন্টু মিয়ার স্ত্রী মাহফুজা ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের জন্য উৎকোচ দেন ২হাজার টাকা, জহুরা কর্মসৃজন কাজের জন্য ২হাজার টাকা এবং আমজাদ কর্মসৃজন কাজে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৩হাজার টাকা উৎকোচ দেন বলে দাবী করেন।
রৌমারী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার জোনাব আলী বাদশা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রহমত উল্লাহ্ পঙ্গু হওয়ায় তার ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যেতে একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়। মুলত ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ, কর্মসৃজন কর্মসুচি, সেলাই মেশিন ও ঢেউটিন প্রদান করার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের হাতে। এ ওয়ার্ডে ভিজিডি কার্ড ১০০টি, কর্মসৃজন কার্ড ১০৬টি, ফেয়ার প্রাইজের কার্ড ৩৭০টি, সেলাই মেশিন ১৪টি এবং ৬জনকে ঢেউটিন ও নগদ ৩হাজার টাকা দেয়া হয়। রৌমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও একই পরিবারে একাধিক সদস্যের নামে ভিজিডি, ফেয়ার প্রাইজ, কর্মসৃজন প্রকল্পের সুবিধা দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন-ইতি পূর্বে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ফেয়ার প্রাইজের ১৬২টি কার্ডের নাম পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে। অন্যদের ব্যাপারে অভিযোগ আসলে পরবর্তীতে ব্যুবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর রাজশাহী
  • অতিরিক্ত মদপানে কলেজছাত্রীর মৃত্যু
  • বগুড়ায় বাংলাদেশ কংগ্রেসের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  • বগুড়ায় বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত
  • আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ
  • রাবিতে মাদকাসক্ত সন্দেহে ১৬ শিক্ষার্থী আটক, মুচলেকায় ছাড়
  • আদিবাসীদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলো পুলিশ
  • রাজশাহীর টার্মিনাল, স্টেশনে মানুষের স্রোত
  • ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ গ্রেপ্তার ১১
  • কুড়িগ্রামে ঋণের বোঝা নিয়ে বিপাকে কৃষক
  • কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচিতে অনিয়মের অভিযোগ
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার জঙ্গির লাশ দাফন
  • রাজশাহীতে ‘ব্লক রেইড’ চলছেই, আছে সোয়াতও
  • সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মেয়র বুলবুলের রিট
  • বাগমারায় জেএমবি সদস্য গ্রেফতার
  • প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুর যাচ্ছেন আজ
  • রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে ১ মাদক ব্যবসায়ী নিহত
  • আত্মহত্যায় প্ররোচনা: সিফাতের স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
  • একুশের প্রথম প্রহরে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার শপথ
  • রাজশাহীতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী নিহত
  • বিদ্যুৎ মিটার ভাঙ্গার জেরে ছোট ভাইকে খুন
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।