ঢাকা | বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এক্সক্লুসিভ

সবাই এখন দলের খাদেম

বাংলাপেইজ ডেস্ক:: প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৫-২০১৭ ইং । ০০:১২:৩৩

শিক্ষক। সাংবাদিক। চিকিৎসক। প্রকৌশলী। আইনজীবী। কবি। সাহিত্যিক। বুদ্ধিজীবী। সরকারি আমলা। আলেম-ওলামা। কোথায় নেই রাজনীতি, দলবাজি। সর্বগ্রাসী এ বিভক্তি। কেউ সাদা, কেউ নীল। রাস্তায় একটু চোখ রাখলেই হরেক রকমের পোস্টার। বিশেষ করে সরকারি দল সমর্থক সংগঠনের কোনো অভাব নেই। সবাই দলের খেদমত করতে চায়। এদের সংখ্যা বাড়ছে। কখনো এদের নাম দেয়া হয়েছে হাইব্রিড। কখনো কাউয়া। কিন্তু দলবাজি করা লোকের সংখ্যা কমেনি। এমনকি এটাও শোনা যায়, সাপুড়েদের মধ্যেও দলবাজি আছে।


এ ভূমে পেশাজীবীদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের পরই প্রধান ভূমিকা ছিল পেশাজীবীদের। আইনজীবীদের ভূমিকা তো ঐতিহাসিক। সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কবি, সাহিত্যক, বুদ্ধিজীবীরা রাজপথে সক্রিয় এবং প্রধান ভূমিকা পালন করেন। মূলত নগরকেন্দ্রিক আন্দোলনের কাছেই হার মানতে হয় দৌর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। তবে অস্বীকার করার জো নেই, সেসময়ও স্বল্পসংখ্যক পেশাজীবী স্বৈরাচার তোষণে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু সামগ্রিক রাজনীতিতে, সমাজে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব ছিল না।


এরশাদের পতনের পর গণতন্ত্রের গৌরবজ্জ্বল পথে হাঁটতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু বিস্ময়করভাবে পেশাজীবীরা ক্রমশ বিভক্ত হয়ে পড়েন। তারা আশ্রয় নেন রাজনীতির ছাতাতলে। কেউ নিজেদের নাম দেন সাদা। কেউ নাম দেন নীল। আদতে তারা কেউ আওয়ামী লীগ, কেউ বিএনপি, কেউ জামায়াত। মোটা দাগে দুই ভাগ হয়ে যায় সব পেশাজীবী সংগঠন। একপক্ষের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। অন্যপক্ষে বিএনপি। মনোনয়ন থেকে নেতা নির্বাচন। সবই ঠিক করে দেন মূল দলের নেতারা। নিজেরা আবার ভাগ হয়ে যান নানা দল-উপদলে। এসব সংগঠনের কোন্দল মীমাংসা থেকে শুরু করে নেতা নির্বাচন সবক্ষেত্রেই লাগাম থেকে যায় মূল দলের হাতে। নেতার ইশারাতেই চলে সব।


এমনকি সরকারি আমলারাও জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। প্রজাতন্ত্রের কর্মীরা শরিক হন রাজপথের আন্দোলনে। তৈরি হয় জনতার মঞ্চ। আমলাদের বদলি-পদোন্নতি সবক্ষেত্রে রাজনীতি হয়ে পড়ে প্রধান নিয়ামক। ভিন্নমতের আমলারা শিকার হন ওএসডির। ওদিকে, বুদ্ধিভিত্তিক জগত থেকে ক্রমশ হারিয়ে যেতে শুরু করে বিবেকের কণ্ঠস্বর। দু-একজন দলের বাইরে থাকলেও দলবাজরা বিতর্কিত করে ফেলেন তাদের। নানা আক্রমণ সইতে হয় তাদের। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে এক পাশে এবিএম মূসা (প্রয়াত) এবং অন্য পাশে ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে রেখে ড. আকবর আলি খান বলেছিলেন, তারা কীভাবে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। মার্শাল ম্যাকলুহানের বিখ্যাত উক্তি- বাহনই বার্তা। বাংলাদেশে তা শতভাগ সত্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক, অর্থনীতিবিদ কিংবা সাংবাদিক- উক্তি শুনেই বোঝা যায় তিনি কোন দলের। সম্রাট আকবরও নেই। তারা সভাসদও নেই। কিন্তু আকবরি গবেষকের যেমন অভাব নেই, তেমনি এধরনের কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরও অভাব নেই। দল যা বলে তাই ঠিক, আর সব ভুল। এটা প্রমাণ করতে তারা ব্যস্ত থাকেন দিবারাত্রী।


মহান পেশা চিকিৎসা। অথচ সেই চিকিৎসকরা দুই ভাগে বিভক্ত। অন্য পেশাজীবী সংগঠনের মতো এখানেও বরাবর সরকার সমর্থিতদেরই দাপট। তাদের ইশারা ছাড়া নাকি কিছুই হয় না। আইনজীবীরাও বিভক্ত সাদা-নীলে। বিভক্তির ভেতরেও আছে বিভক্তি। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে কোন্দলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এখন অবশ্য তা অতটা প্রকট নয়। আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা কয়েক সংগঠনে বিভক্ত ছিলেন। কয়দিন আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে অবশ্য এখন তারা একই ছাতার নিচে এসেছেন। তবে এ ঐক্য কত দিন থাকে তাই হবে দেখার বিষয়।
সাংবাদিকদের অবস্থা আরো করুণ। তারাও দুই শিবিরে বিভক্তি। জাতীয়তাবাদীরা আবার দুই ভাগ। সহকর্মীদের রক্তও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। সাগর-রুনি হত্যার বিচার আন্দোলনের সময় তারা মাঝেমাঝেই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ নেন। আবার পরক্ষণেই তা ভুলে গিয়ে বিভক্তিতে মাতেন। অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ক্রমশ দুর্বল হওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে সাংবাদিকদের মধ্যে এ বিভক্তি। নিজ পেশার অবস্থান শক্তিশালী করার চেয়ে তারা মনোযোগী হয়েছেন নিজেদের সুযোগ-সুবিধার দিকে।


সব শ্রেণির পেশাজীবীদের মধ্যে যেমন দলের খাদেমের অভাব নেই তেমনি আবার একদল খাদেম আছেন, যাদের কোনো দল নেই। তারা সবসময়ই সরকারি দল। খেদমতের নামে নিজেদের আখের গোছাতে সবসময় তারা চেষ্টা করেন সরকারি দলে ভিড়তে। তাদের আরেক নাম পারমানেন্ট গভর্নমেন্ট পার্টি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে এমন খাদেমদের নিয়ে বিপুল সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের বিরুদ্ধে বারবারই মুখ খুলেছেন। কাউয়া অথবা হাইব্রিড যে নামেই ডাকা হোক না কেন তাদের নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তাদের প্রভাবেরও যেন শেষ নেই। আসলে সবাই এখন দলের খাদেম।

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর এক্সক্লুসিভ
  • খালেদার মামলার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই
  • ধনী-গরিবের প্রেম, অত:পর গরিব জেলে!
  • ফার্ম আর গোয়ালে তৈরি হয় লাচ্ছা সেমাই!
  • নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট
  • সবাই এখন দলের খাদেম
  • ফাঁসির আসামি না হয়েও সিলেটের খালিক ৭ বছর ফাঁসির সেলে !
  • বউকে কোটি টাকার গাড়ি উপহার দিলেন বাবলু
  • শ্রীমঙ্গলের সিরাজ শিকদার মদ মেপে মিলিয়নেয়ার!
  • মাদকের কবল থেকে মুক্তি চান উর্দুভাষীরা
  • মাদক বিরোধী মিছিলে মাদক ব্যসায়ীরা
  • আত্মসমর্পণ দলিলে সই নিয়ে প্রতারণার চেষ্টা ছিল নিয়াজীর
  • সেই সুশান্ত পাল স্ট্যান্ড রিলিজ
  • ‘আলোকিত যুবশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করছে যুবলীগ’
  • কালশী হত্যাকান্ডে বেঁচে যাওয়া ফারজানা আবারো হাসপাতালে
  • ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় যুগান্তকারী ওষুধ ইমিউনিথেরাপি ড্রাগ
  • জাল সার্টিফিকেটধারী শিক্ষকদের অপসারণ দাবি
  • মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তির দাবি
  • কিভাবে বুঝবেন আপনার দুধে পানি মেশানো আছে কি না?(ভিডিওসহ)
  • জেনে নিন, আপনার স্বপ্নের অর্থ কি? কোন স্বপ্ন কিসের ইঙ্গিত দেয়?
  • ৪ জেলার গ্যাস থাকবে না ৬ দিন
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।