ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
ঢাকা হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ শহর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনায় গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া নিউ ইয়র্কে হামলা : উদ্বেগে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাবেক ডেপুটি-মেয়রের নাম নতুন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের প্রাচীরে উঠায় এক যুবক গ্রেফতার: শর্তসাপেক্ষে মুক্তি বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের ইতি কাতার-সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের খবর সর্ম্পণ মিথ্যা বানোয়াট: মধ্যে প্রাচ্যে বিএনপি আগামীকাল ফ্রান্স ডেমনস্ট্রেশনে  যোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির  ২ শতাধিক  নেতাকর্মী
শিল্প ও সাহিত্য

গণমানুষের কবি

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং । ২৩:২৮:৪৮

১৯৭৭ সালের ৭ মার্চ সিলেটে কবি দিলওয়ারকে এক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনায় পড়া মানপত্রের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়, ‘গণমানুষের কবি’ দিলওয়ারকে সিলেটের মানুষ অভিনন্দন জানাচ্ছে ‘স্বদেশ, স্বজাতি ও বিশ্বমানবের মঙ্গল কামনাকে অঙ্গীকার করে’ তাঁর ‘আবাল্য কাব্যসাধনার’ জন্য। সেই থেকে ‘গণমানুষের কবি’ অভিধাটি তাঁর নামের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়, যদিও তাঁর পাঠকদের কাছে এটি কোনো আবিষ্কারের বিষয় ছিল না। তত দিনে তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ জিজ্ঞাসা (১৯৫৩), ঐকতান (১৯৬৪), পূবাল হাওয়া (১৯৬৬), উদ্ভিন্ন উল্লাস (১৯৬৯) ও বাংলা তোমার আমার—তাঁকে ব্যাপক কবিখ্যাতি এনে দিয়েছে। ১৯৭৭ সালে তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে সিলেটের সবচেয়ে সম্মানিত নাগরিকদের একজন এবং প্রিয় কবিদের তালিকার শীর্ষে।
দিলওয়ারের কবিতার সঙ্গে আমার তখন প্রথম পরিচয়, স্কুলের শেষ ক্লাসে তাঁকে সবাই জানত একজন আধুনিক কবি হিসেবে। মাঝেমধ্যে তিনি ঢাকায় থেকেছেন, সংবাদ অথবা অন্য কোনো কাগজে চাকরি করেছেন, কিন্তু সেই থাকাটা হতো সংক্ষিপ্ত। সিলেটে, খান মঞ্জিলে না ফেরা পর্যন্ত তাঁর নিজেকে যেন অরক্ষিত মনে হতো। তিনি কবিতা লিখেছেন, ছড়া লিখেছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন, সংবাদপত্রের কলাম অথবা দু-একটি ছোট গল্পও লিখেছেন। কিন্তু তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ছিল নিজের ঘরে, তাঁর লেখার টেবিলে বসে লেখায়। সেই অর্থে তিনি ছিলেন ‘মফস্বলের কবি’। তবে মফস্বলকে যদি সীমিত ভূগোল, সীমাবদ্ধ জীবনদৃষ্টি ও সামান্য বিশ্ববোধের ভুল এবং উন্নাসিক মাপে বিচার করা না হয়, তাহলে দিলওয়ারকে কোনো ক্রমেই মফস্বলের কবি বলা যাবে না। তাঁর ভূগোল ছিল দেশ ও বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত, জীবনদৃষ্টি ছিল উদার-মানবিক এবং তাঁর আধুনিকতা ছিল সময়ের বিচার-বিক্ষোভ-ক্লান্তিকে বুঝতে পারার—তাকে প্রকাশ করার এক অদ্ভুত শক্তিতে পূর্ণ। সময়ের নাড়িতে একটা আঙুল রেখে চলতেন তিনি: সে জন্য সময় ভ্রমণ তাঁকে বিপন্ন করত না।
নিজের অনেক কবিতায় তিনি অতীতে ফিরে গেছেন, অনেক কবিতায় তাকিয়েছেন ভবিষ্যতের দিকে; কিন্তু সময়ের সমস্যাগুলো কীভাবে মেটাতে হয়, তা তিনি জানতেন।
নিজের কবিতায় গণমানুষকে এতটা জায়গা তিনি কেন দিয়েছেন? সে প্রশ্নের উত্তরও তাঁর আধুনিকতার বোধেই পাওয়া যাবে। এই কবির আধুনিকতা শহুরে মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, জনবিচ্ছিন্নতা অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটকে বিবেচনায় আনেনি, এনেছে সভ্যতার সংকটকে, মানুষের সংগ্রাম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবকে।
একই সঙ্গে দিলওয়ার ছিলেন শিকড়সন্ধানী একজন মানুষ, যে শিকড়টি লালন করে সংস্কৃতি। আবার প্রকৃতিকে তিনি দেখেছেন একজন প্রেমিকের দৃষ্টি দিয়ে, প্রেমকে দেখেছেন একজন পূর্ণতা-প্রয়াসী মানুষের দৃষ্টিতে। প্রকৃতির বিপন্নতা এবং বিপন্ন মানুষের প্রকৃতি-সন্ধান সমান্তরালভাবে প্রকাশিত তাঁর কবিতায়।
২.
দিলওয়ারের একটা করে বই বেরোত আর তাঁর পাঠকমহলে সেগুলো সাড়া জাগাত। আমাদের স্কুলের লাইব্রেরি থেকে নিয়ে পড়েছি জিজ্ঞাসা ও ঐকতান। জিজ্ঞাসার ‘এবার এলো’ কবিতার দুটি চরণ এখনো মনে গেঁথে আছে—‘এবার এলো শক্তিহীনদের/ শক্তি লাভের দিন।’
ঐকতান-এর ‘জীনব্রীজে সূর্যোদয়’ তো মুখস্থই হয়ে গিয়েছিল পড়তে পড়তে, ব্রিজটি যেহেতু ছিল আমার প্রিয়, এবং কবিতাটি পড়ে সেই ব্রিজ থেকে সূর্যোদয় দেখতে গিয়েছি এক ফাগুনের ভোরে; তখন বুঝেছি, কত স্বচ্ছ ছিল তাঁর দেখার দৃষ্টি এবং কত বলিষ্ঠ ছিল দেখানোর শক্তি!
তাঁর আরেকটি কবিতা পড়ে আমার এক ঘরকুনো ও রাজপথ-ভীত বন্ধু উনসত্তরের মিছিলে নেমেছিল—‘যাও তুমি’ কবিতারণ সেই চরণগুলি: ‘যাও/ জানালায় নয় আর/পথে গিয়ে মিছিলে দাঁড়াও।’ দিলওয়ারের কবিতার ভাষায় শৈলীর কারুকাজ ছিল কম, আবেগ ছিল বেশি। আমার অবাক লাগত, কত তুচ্ছ বিষয় জায়গা করে নিত তাঁর কবিতায়! বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে একটা কবিতা ছিল তাঁর—‘ভুলতে পারিনে আমি অতর্কিতে মনে পড়ে যায়/ সেই কবে পথে দেখা রোঁয়াওঠা কুকুরের ছবি’—এভাবে বর্ণনা করেছেন কুকুরটিকে। কবিতার নামটি মনে নেই, যদিও পঙিক্তগুলো ভুলতে পারিনি।
যে মানুষ বিপ্লব নিয়ে, স্বাধীনতা নিয়ে, জনতার প্রতিরোধ নিয়ে কবিতা লিখেছেন, তাঁর কাছে রোঁয়াওঠা এই কুকুরটিরও গুরুত্ব ছিল। সামান্যে-অসামান্যে, তুচ্ছে-মহতে তিনি অকারণ বিভাজন টানেননি, মূল্য বিচারে নামেননি—এ ছিল তাঁর আধুনিক মননের আরেক দিক।
দিলওয়ার চলে গেছেন ৭৬ বছরের গৌরবসিদ্ধ পথচলা শেষ করে। তাঁর সঙ্গে একবারই একটু সময় নিয়ে কথা হয়েছিল, যে বছর তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। খ্যাতির মোহ তাঁর ছিল না; আড়ালে থেকে নিজের কাজ করাকেই প্রাধান্য দিতেন। সারা জীবন অটল ছিলেন নিজের বিশ্বাসে। ওই দিন তাঁর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সব মনে নেই তবে একটা কথা এখনো মনে জেগে আছে—‘নিজের বিশ্বাস যে হারায় সে কবি নয়।’
ডিআর/৮৪

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর শিল্প ও সাহিত্য
  • নুহাশ পল্লীতে হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী পালিত
  • শাবি প্রেসক্লাবের নতুন সভাপতি মনসুর ও সম্পাদক ফয়জুল্লাহ
  • গণমানুষের কবি
  • কাকটি দেখেছিল তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে
  • দোহাই তোমার দাদা ঠাকুর, রক্ষে করো বাবা
  • বিশ্বকবির ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ
  • বব ডিলান অবশেষে নোবেল পুরষ্কার নিলেন
  • শেষ হলো দিরাইয়ের সাহিত্য উৎসব
  • সাঙ্গ হচ্ছে দিরাইয়ের সাহিত্য উৎসব
  • ‘প্রেমই আমাকে এই পথে ডেকেছে’
  • প্রকাশ ভঙ্গি , রীতি, কৌশল, বুদ্ধিদীপ্ততা এ সময়ের কবিতা
  • কবি লিনা লিসার কবিতার বই "ছায়াচিহ্ন" বই মেলায়
  • ‘দীন শরৎ বলে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
  • একুশে বই মেলায় হাবীবাহ্ নাসরিনের প্রথম উপন্যাস
  • সময়কে বিদ্ধ করা উপন্যাস ‘আহ্ পাকিস্তান’
  • ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা
  • বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৬ ঘোষণা
  • তরুণ সাহিত্যকর্মীদের সম্মাননা দিলো ‘কাব্যকথা’
  • নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় একুশে বইমেলায় থাকছে শ্রাবণ প্রকাশনী
  • সামসুল আরেফিনের মৃত্যুতে জাবির উপাচার্যেরর শোক
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।