ঢাকা | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনায় গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া নিউ ইয়র্কে হামলা : উদ্বেগে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সাবেক ডেপুটি-মেয়রের নাম নতুন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদের প্রাচীরে উঠায় এক যুবক গ্রেফতার: শর্তসাপেক্ষে মুক্তি বাংলাদেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার লড়াইয়ের ইতি কাতার-সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সম্পদের খবর সর্ম্পণ মিথ্যা বানোয়াট: মধ্যে প্রাচ্যে বিএনপি আগামীকাল ফ্রান্স ডেমনস্ট্রেশনে  যোগ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য বিএনপির  ২ শতাধিক  নেতাকর্মী দলীয় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা : যুক্তরাজ্য বিএনপির  বিবৃতি
মুক্তমত সানাউল হক নীরু

বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্বাসন রাষ্ট্র ক্ষমতা নাকি নির্বাসন?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০৮-২০১৭ ইং । ১৫:৫১:৩২

বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসছে এমন কোন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কিংবা নূন্যতম সম্ভাবনা আমার জানা নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র কিংবা ক্ষমতার সমীকরণে সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেনাবাহিনী। তারপর বিভিন্ন আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আমলাতন্ত্র এবং সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হচ্ছে জনগণের ভোটদানের নিশ্চয়তা। অর্থাৎ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বহুমুখী চক্রান্ত ও হুমকির কারণে যেমন একদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে দাঁডিয়ে ৭ নভেম্বরের মহান বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং দেশ পূণর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে, তেমনি করে রাজনৈতিক সমীকরণে তারা বিএনপিকে তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে। এমনকি অপরাপর সকল বাহিনী, সংস্থা, আমলাতন্ত্র, তৃণমূল ও দেশপ্রেমিক জনতা দেশ পূণর্গঠনে বিএনপিকেই তাদের শেষ ভরসার স্থল হিসেবেই সার্ভিস দিয়েছেন।

৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৬ এবং ২৭ মার্চ এক মহান বীর সেনানী স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়ার নেতৃত্বে যাদের নতুন করে পথ চলা শুরু, ৯ মাসের রক্তাক্ত যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও বিজয়ী জাতির অন্যতম গৌরব গাঁথা সেনাবাহিনী জাতির প্রতিটা ক্রান্তিলগ্নে এদেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণে অন্যতম অবদান রেখেছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দীর্ঘ নয় বছরের লড়াই সংগ্রামেও জিয়া পরিবার কোন প্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি! তারপরও নব্বই পূর্ববর্তী আন্দোলন, সংগ্রামে আমরা যারা এ দলটিকে নতুন করে ক্ষমতার মসনদ পুনরুদ্বার ও দেশগড়ার স্বপ্নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম, তারা উপেক্ষিত হলেও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী কর্তৃক শতভাগ ফেয়ার নির্বাচনের গ্যারান্টি তাদেরকে ১৯৯১-৯৬ পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

হাতেগোনা কিছু সুবিধাভোগী নব্য বিএনপি নেতা ও সিনিয়র দুই তিনজন মন্ত্রীকে দুর্নীতি করতে দেখা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপির ৯১ এর সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। বিএনপির জনসমর্থনও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর নিরব সমর্থন, বিশেষকরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া নেতৃত্ব ও টিমমেটরা দল, দেশ এবং নেত্রীকে সঠিক পথেই পরিচালিত করেছেন।

৯৬-তে আওয়ামী লীগ ও জামাতের গোপন আঁতাত এবং ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে দল ক্ষমতায় না গেলেও অনেক সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী দলে যাওয়ার পরও বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি।

কিন্তু ২০০১-২০০৬ এর নির্বাচনে জামাত বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে এক বহুমাত্রিক দূর্নীতিগ্রস্ত লুটেরাদের উত্থান দেখতে পেলাম। দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছে জামাত, হাওয়া ভবনের দূর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট চক্র এবং বিএনপির ক্ষমতার অন্যতম গডফাদার ৩০০ আসনের মধ্যে থেকে দলের টিকেটে বিজয়ী এমপি, মন্ত্রী, চাকর বাকর এবং সুবিধাভোগী চক্র। ক্ষমতার দম্ভে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান ও মিত্র একে একে সবাইকে হারিয়ে বন্ধুহীন হয়েছে বিএনপি। বিশেষকরে আন্তর্জাতিক এরেনাতেও এরা চায়নার মত বন্ধু রাষ্ট্র এবং আরও অনেককে ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য প্রায় সবাই বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, এসবই এদের নিজেদের সৃষ্ট দুর্বলতা, অদক্ষতা ও পাপের ফসল। এরা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে একে একে সবাইকে হারিয়েছে, বিশেষকরে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মিলিটারী ও সিভিল ব্যুরোক্রেসী সকল ক্ষেত্রেই যে দূরত্ব তৈরি করলো, তার শেষ পরিণতি হচ্ছে ১/১১, এবং ২০০৬ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও ক্ষমতার বলয় থেকে ছিটকে পড়া। এরা শেষপর্যন্ত স্বপ্ন দেখেছিলো টাকা দিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে ফেলবে এবং তাদের নিজেদের জোটের অন্যতম শরীক জামাত যে বিশ্বাসঘাতকতা করলো, শেষপর্যন্ত তার খেসারতও সেই জামাতকেই দিতে হয়েছে।

১/১১-র পর দেখতে পেলাম জামাত দুধে ধোয়া তুলশি পাতা! জামাতের নেতারা সবাই নাকি ক্লিন, আর বিএনপি ভেজাল মাল ! বিএনপির সব নেতা, এমপি মন্ত্রীরা এমনকি জিয়া পরিবার একে একে জেলে ঢুকছে, আর জামাত তালিয়া বাজাচ্ছে!

শেষ আপডেট হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এরা জামাতকে বিশ্বাস করে, তাদের প্রেসক্রিপশনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেষপর্যন্ত ২৯ আসনে সন্তষ্ট থাকতে হয়েছে। কিন্তু বিএনপি রাজনীতির অব্যাহত ভুল সিদ্ধান্ত, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে একই রকম দুর্নীতি মামলা থাকার পরও বেগম খালেদা জিয়া তাঁর দুই ছেলে এবং পরিবারের সকল সদস্যকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছেন, নাকি চুক্তির শর্ত মেনে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন?!! তাও আজ মিলিয়ন ডলার কোয়েশসান॥ একমাত্র বিএনপি নেত্রীই তা জানেন, যা আজ এক অতীত অধ্যায়, দু:স্বপ্নের রজনী।

বিএনপি গত দশ বছরে কি তাদের মিত্র কিংবা বন্ধুদের আস্থার অবস্থানে আনতে পেরেছেন? আমার উত্তর হচ্ছে না॥ তাহলে একশত ভাগ ফেয়ার নির্বাচনের গ্যারান্টি কে বা কারা? আমি ড্যাম শিউর এর উত্তর বেগম খালেদা জিয়া, কিংবা জনাব তারেক রহমানের জানা নেই ! আর যদি ভাবেন ভারত দেশে একটা ফেয়ার নির্বাচন করে তাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, তাহলে এটি হবে জামাতের মতোই একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত এবং আরও একটি ২০০৮ এর নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সাথে ভারতের সম্পর্ক যতোই খারাপ হোক না কেন, তাদের বেস্ট এবং লাস্ট সিলেকশন হচ্ছে আওয়ামী লীগ।বিশেষ করে চায়না ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, সরকারি আমলাতন্ত্র, প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ষ্টেক হোল্ডাররা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের গ্যারান্টি না দেয়া পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপি কখনোই ঘুরে দাঁড়াবে না!

আমি বিএনপির শত্রু নই, বন্ধু। প্রাণপ্রিয় নেতার কারণে আজও এই দলের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। আমার অহংকার আমি চোর নই, _ সৎ, ইমানদার, দেশপ্রেমিক এবং শহীদ জিয়ার এক আদর্শের সৈনিক। জনাব তারেক রহমানের বাংলাদেশে আসা কিংবা রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ, শুধু সরকার নয় কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত রাজি নয়, সেখানে এই দলের ভবিষ্যত কি?

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হীনমণ্যতা ও সিদ্ধান্তহীনতা আমাকে ভাবায়, এরা সম্ভবত কোনো ভালো মানুষকেই আর এই দলের রাজনীতি করতে দিবেন না। দলে যেভাবে প্রতিনিয়ত অযোগ্য, বিশ্বাসঘাতক, বেইমান এবং চাকর বাকর এবং কাবুলিওয়ালাদের পুনর্বাসন চলছে, আল্লাহ্ মালুম শেষপর্যন্ত এদের নসীবে কি অপেক্ষা করছে ! নীতি নৈতিকতার কারণেই অনেক বিষয় লেখা সম্ভব হয়ে উঠে না, অনেকবারই ভাবী আর লিখবো না, কিন্তু বিবেকের দায় এড়ানো সহজ নয়।

লেখক: সাবেক ছাত্রদল নেতা

#ম.র/বাংলাপেইজ

শেয়ার করুন
সর্বশেষ খবর মুক্তমত
  • আসুন ভালোবাসার লড়াই করি
  • রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার জন্য দায়ী কারা?
  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আপনার করনীয়
  • সাইদুর এবং..
  • ‘বঙ্গশার্দূল’ ওসমানী অবহেলিত কেন ?
  • "খন্দকার মোশতাক চক্রের প্রেতাত্নারা নানা মুখোশে রাজনীতি করছে সর্বত্র"
  • নোবেল কি পাবেন শেখ হাসিনা?
  • ‘ঈদ’-‘ইদ’ বানান বিতর্ক, বাস্তবতা ও একটি প্রস্তাব
  • বাঙ্গালি দ্বারা রোহিঙ্গা নির্যাতন..!!!
  • হায় হেফাজত!
  • ‘আমরা সামরিক ভাষায় কথা বলতে চাই’
  • জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বিএনপি’র
  • কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মুখোমুখি দেশ
  • প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির নাম বন্ধুত্ব
  • মাহবুব আলী খান 
  • বিএনপির রাজনৈতিক পুনর্বাসন রাষ্ট্র ক্ষমতা নাকি নির্বাসন?
  •   প্রবাসী বিএনপির কাণ্ডারি মুকিব : তপ্ত মরুর বুকে চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ
  • প্রসঙ্গ: ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন
  • তাদের নিরবতাই বড় প্রমাণ
  • ভুয়া অ্যাওয়ার্ডের মতোই কী রামপালের অনাপত্তি?
  • এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।